রিপাবলিকান শিবিরের দীর্ঘদিনের দুর্গ অ্যারিজোনায় ফাটল ধরেছে। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই রাজ্যে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। বিশ্লেষকরা অ্যারিজোনায় ডেমোক্র্যাটদের এই উত্থানকে প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের প্রতিশোধ হিসেবে দেখছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের কৃতকর্মের জন্যই এবার অনেক রিপাবলিকানের সমর্থন পাননি, যারা পার্টির জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জন ম্যাককেইন অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে হ্যানয় হিল্টন নামের কুখ্যত কারাগারে বন্দি ছিলেন সাড়ে পাঁচ বছর। সেই ম্যাককেইনকেই ট্রাম্প তার নির্বাচনী সমাবেশে বলেছিলেন, ‘তিনি (ম্যাককেইন) কোনো নায়ক নন। তিনি বন্দি ছিলেন বলে তাকে যুদ্ধের নায়ক বানানো হয়েছিল। আমি তাদেরই পছন্দ করি যারা ধরা পড়েনি।’ ম্যাককেইনের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কখনো জন ম্যাককেইনের ভক্ত ছিলাম না, কখনো হব না।’
ট্রাম্পের যোগ্যতা ও ক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন ম্যাককেইন। এক বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহারের কারণে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদে তাকে সমর্থন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ মৃত্যুর আগে ম্যাককেইন তার স্তুতিবাক্য পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। তার শেষকৃত্যে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অ্যারিজোনায় ম্যাককেইনকে মানুষ ভালোবাসেন শুধু তার ভিয়েতনামের ভূমিকার জন্য নয়, তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার জন্যও। তবে অ্যারিজোনার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নতুন। তারা ম্যাককেইনের প্রথম সিনেটে প্রবেশকাল (১৯৮৬) থেকে মৃত্যুর সময়ের মাঝামাঝি অ্যারিজোনায় বাস করতে শুরু করেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অ্যারিজোনায় ২২ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে। আবার একই সময়ে ১৭ লাখ মানুষ রাজ্যটি থেকে অন্যত্র চলে গেছে।
অ্যারিজোনার নতুন বাসিন্দাদের রিপাবলিকান শিবিরের প্রতিই সমর্থনের পাল্লা ভারী ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মহামারী সামলাতে যেভাবে একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে ওই সমর্থকরা সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বাধ্য হন। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্প যেভাবে একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছিলেন তা-ও অ্যারিজোনায় তার পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যারিজোনায় ট্রাম্পের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন ম্যাককেইনের স্ত্রী সিনডি ম্যাককেইন। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক টুইট করেছেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার স্বামী জন একটা নীতি বিশ্বাস করতেন; প্রথমে দেশ, এরপর রিপাবলিকানরা। এবারের লড়াইয়ে একমাত্র প্রার্থী জো বাইডেন, যিনি এই মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। জো এবং আমি সব ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাই না। তার আর জনের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। কিন্তু তিনি একজন ভালো ও সৎ মানুষ। তিনি গৌরবের সঙ্গেই আমাদের নেতৃত্ব দেবেন। তিনিই হবেন আমাদের কমান্ডার ইন চিফ।’
অ্যারিজোনায় বাইডেনকে জেতাতে এগিয়ে এসেছিলেন ম্যাককেইনের দীর্ঘদিনের বন্ধু অ্যাটর্নি জেনারেল গ্রান্ট উডস। এমনকি ম্যাককেইনের মেয়েও বাইডেনকে সমর্থন দিয়েছেন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। টেলিভিশনেও ছিল তার সরব উপস্থিতি।