বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তরে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতুর কাজ শুরু হবে: রেলপথ মন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রী  অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩শ মিটার উত্তরে দেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে। আগামী ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। 

শনিবার দুপুরে নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি রেলপথ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি জিরো পয়েন্টে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে এই রেল সেতুটি। এর মধ্যে আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন ৫ হাজার  কোটি এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করছে জাপান সরকার। এই রেল সেতু নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। ডুয়েল গেজ ও ডাবল লাইনের এই রেল সেতু দিয়ে ঘণ্টায় একশ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে। দেশের দ্বিতীয় এই রেল সেতু নির্মাণ শেষ হলে আর কোন ট্রাফিক জ্যাম থাকবে না। এক সঙ্গে দু’টি করে ট্রেন যাতায়াত করবে।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মধ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উন্মুক্ত হবে। প্রাথমিক অবস্থায় চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে যেমন কলকাতা পর্যন্ত যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং খুলনা থেকে কলকাতা পর্যন্ত বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে, তেমনি ঢাকা থেকে ভারতের শিলিগুড়ি পর্যন্ত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পথ দিয়ে আর একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারে সেটি আমাদের পরিকল্পনায় আছে। ভারত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে অথবা কাছাকাছি কোন সময় চলাচল করবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রেলের উন্নয়নে কাজ করছেন। আগামী ২০৪৫ সালের মধ্যে দেশে বৈদ্যুতিক রেল ইঞ্জিন দিয়ে চলবে রেল। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে আধুনিক ও উন্নতমানের।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, ৫৬ বিজিবি নীলফামারী সদর দপ্তরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (পশ্চিমাঞ্চল) শহীদুল ইসলাম, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান উদ্দিন,  প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, ডোমার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সিহাব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।