ভান্ডারীদের মাধ্যমে হেফাজত দখলের ষড়যন্ত্র হচ্ছে: ফয়জুল্লাহ

রবিবার অনুষ্ঠিতব্য হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিলকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফীর অনুসারী মুফতি ফয়জুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘কওমি অঙ্গন ও আল্লামা শফির চরম বিরোধী ভান্ডারীদের মাধ্যমে হেফাজত দখলের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। ভান্ডারীকে এসব ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে- এসব বলে তারা জনমনে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আজ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করে যারা হেফাজতে ইসলামকে একটি চিহ্নিত দলের ক্রীড়নকে পরিণত করতে চাচ্ছে অচিরেই তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত হবে’।

শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ লিখিত বক্তব্য বলেন, ‘একটি চিহ্নিত মহল হেফাজতে ইসলামকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গভীর ষড়যন্ত্র করছে’।

তিনি শাহ আহমদ শফির মৃত্যুকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।

তিনি বলেন, হেফাজতের মূল প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা, যাদের শ্রম ও ঘামে হেফাজতে ইসলাম এই পর্যন্ত এসেছে, তাদের বাদ দিয়ে নতুন কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চক্রান্ত কওমি অঙ্গনের জন্য ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।

মুফতি ফয়জুল্লাহ আরও বলেন,  ‘‘একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মুফতি আহমদ শফিকে ‘শহীদ’ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের গভীর ষড়যন্ত্র করছে। এসবের নেতৃত্বে রয়েছে হেফাজতে ইসলামের কিছু নেতা, কিছু চরমপন্থী ও উগ্রবাদী। হাটহাজারী মাদ্রাসায় আন্দোলনের নামে আল্লামা শফির কক্ষ ভাঙচুর এবং তার ওপর অনৈতিক চাপ, অসৌজন্যমূলক আচরণ, তার চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটানো, তার অক্সিজেন খুলে নেয়া, হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে না দিয়ে মাদ্রাসার বাইরে গেটে আটকে দেওয়া এবং হাসপাতালে নেয়ার আগে তিনি তাকে সেবা করতেন তাকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে নির্যাতন করা- এসবই ছিল তাদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।’’

ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘শাহ আহমদ শফীকে পরিকল্পিতভাবে ‘শহীদ’ করা হয়েছে। এ কথা জানার পরও এই চরম ও উগ্রপন্থীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। মনে রাখতে হবে সত্যকে কখনো ধামাচাপা দেওয়া যায় না। সত্য একদিন উদ্ভাসিত হবেই। এই বিজয়কে মিথ্যার আশ্রয়ে চিরকাল ঢেকে রাখা যাবে না। আল্লামা শফির অস্বাভাবিক শাহাদাতের বিচার বাংলার জমিনে একদিন হবেই। আজকে সাংবাদিক সম্মেলনে আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে, শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হোক। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটন করা হোক, দেশবাসীর সত্য জানার অধিকার রয়েছে। দেশের তৌহিদি জনতা আল্লামা শফীকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসেন। তারা উদ্‌গ্রীব হয়ে আছেন কখন আল্লামা শফীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে।’

‘হেফাজতের মূল ধারাকে বাদ দিয়ে যারা হেফাজতের একজন পদত্যাগী নেতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জনকল্যাণমূলক এই সংগঠনকে দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করছে তাদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে, এ দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ ও ওলামায়ে কেরামজন এমন চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেবে না এবং মেনে নিবে না। আল্লামা শফীর এই আমানত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য দেশের আলেম ওলামা ও তৌহিদি জনতা সবকিছু উৎসর্গ করতে প্রস্তুত রয়েছে’।

হেফাজতে ইসলামের ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হেফাজতের কাউন্সিলের নামে একতরফাভাবে কাউকে হেফাজতে ইসলামের দায়িত্ব দেওয়া হলে তা এ দেশের ওলামায়ে কেরাম মেনে নিবে না। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে হেফাজতের সর্বোচ্চ আমির কর্তৃক গঠিত এবং বর্তমান মহাসচিব কর্তৃক অনুমোদিত কমিটির মাধ্যমে হেফাজতের কাউন্সিল সর্ব সমর্থিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনলেই দেশবাসীসহ ওলামায়ে কেরাম সেই নেতৃত্বকেই গ্রহণ করবে। এ ছাড়া ভিন্ন পথে কোনো কিছু করার ষড়যন্ত্র হলে তা দেশবাসী রুখে দেবে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বায়তুল ইসলাম কর্তৃক গঠিত হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে যে কমিটিতে বর্তমান মহাসচিবের অনুমোদন রয়েছে সে কমিটির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। ভুল পথে কোনো কিছু করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর বর্তাবে’।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা জিয়াউল হক জিয়া, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, মাওলানা আব্দুল বারী সিরাজী, মাওলানা আতাউর রহমান খান, মুফতি নাসির উদ্দিন, মাওলানা মুজিব, মাওলানা মনসুরুল হক, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইদ্রিস, মাওলানা জাকির হোসাইনসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৫ অক্টোবর নাজিরহাট মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফটিকছড়ির আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী হেফাজত আমির হিসেবে জুনাইদ বাবুনগরীকে দেখতে চাওয়ার কথা জানান।