রিমান্ড শেষে কারাগারে তিথি সরকার

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পল্টন থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিথি সরকারকে একদিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শনিবার তিথিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। ঢাকার মহারনগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১২ নভেম্বর তিথি সরকারের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। ওই দিন তার স্বামী শিপলু মল্লিকের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১১ নভেম্বর বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নরসিংদীর মাধবদীর পাঁচদোনায় স্বামীর এক দূরসম্পর্কীয় আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তিথি সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন দুপুরে তার স্বামী শিপলু মল্লিক রাজধানীর কাপ্তানবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন।

তিথি ২৫ অক্টোবর সকাল ৯টার পর থানার উদ্দেশে একাই বের হন জানিয়ে তার বোন স্মৃতি বলেন, তারপরও আমরা ফোনে চেষ্টা করেছি। দুপুর থেকেই খোঁজ নিই বিভিন্ন জায়গায়। থানায় গেছে কি না সে খোঁজ নিতে ১১টার দিকে থানায়ও ফোন করেছিলাম।

এ ঘটনায় ২৭ অক্টোবর সাধারণ ডায়রি হয় বলে জানিয়ছিলেন পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী।

তিথির বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ তুলে ২৪ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছিল একদল শিক্ষার্থী। সেখানে ইসলামি শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, আহলে হাদিসের মতো ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের কর্মীরাও। তাদের দাবির মুখে ২৭ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।

সর্বশেষ সোমবার সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করাকালীন গত ৩১ অক্টোবর সকালে সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম দেখতে পায় যে, ফেসবুকে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি সরকারকে সিআইডির মালিবাগ অফিসের চারতলা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার’ শীর্ষক একটি সংবাদ পোস্ট ও শেয়ার করা হয়। এই সংবাদটি দ্রুত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে ভাইরাল করা হয়। যা একটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত সংবাদ। এই ধরনের সংবাদ বা তথ্য শেয়ার-পোস্ট করার মাধ্যমে সিআইডি তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বা সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

এ ঘটনায় তারা নিরঞ্জন বড়াল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।