উচ্ছেদ অভিযানের পর ইউএনও-এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

উচ্ছেদ অভিযানের পর সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব ও এসিল্যান্ড তাসলিমা শিরিনের বিরুদ্ধে এসকেভেটর মেশিনে অগ্নিসংযোগ, মৎস্য খামারে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে তাদের বিচার দাবি করা হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব সুজাপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় সোমবার সকালে এসকেভেটর মালিক, শতাধিক মৎস্য খামারি তাদের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন।

তারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, শনিবার বিকেলে আগাম নোটিশ ছাড়া অবৈধ স্থাপনার হিসেবে উল্লেখ করে এবং রাস্তা চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে চর খোয়াজ, চর লামছি, থাক খোয়াজ লামছির মৎস্য ব্যবসায়ীদের মাছের খামারের ঘর ভাঙচুর, মাছের খাদ্য নষ্ট, মালামাল লুটপাট, এসকেভেটর মেশিনে অগ্নিসংযোগ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড।

এসকেভেটর মালিক জামসেদ আলম বলেন, ‘গত বছর দিঘি সংস্কার কাজ শেষে এক কর্মচারীর তত্ত্বাবধানে রাস্তার পাশে মেশিন রাখা হয়। শনিবার বিকেলে ইউএনও স্যার আমাকে ফোন দিয়ে এসকেভেটর মেশিন সরিয়ে নিতে বলেন। সন্ধ্যার পর কর্মচারী মারফত জানতে পারি আমার ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের স্কেভেটর মেশিনটি পুরোপুরি পুড়িয়ে দিয়েছে। রাতে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আমাকে ফিরিয়ে দেয়। আমার এসকেভেটর মেশিনের পাশে আরেকটা মেশিন থাকলেও সেটির কোনো ক্ষতি করেনি। কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আর্থিক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আমার মেশিনটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব’।

মৎস্য চাষি আবুল কাশেম, শেখ রাসেল, সালাউদ্দিন, আকবর হুমায়ুন, ডাক্তার শাহজাহান, মোহাম্মদ মিলন বলেন, ‘সরকারেরর কাছ থেকে লিজ ও ব্যক্তি মালিকানার জমিতে বৈধ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আমরা মৎস্য খামার গড়ে তুলে মাছ চাষ করছি। গত কয়েক মাস ধরে কোনো নোটিশ কিংবা আগাম সতর্ক না করে প্রশাসনের লোকজন আমাদের মৎস্য খামারের ঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুট করছে। গত দু’দিন আগে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের মৎস্য খামারের পাঁচ/ছয়টি ঘর ভাঙচুর চালিয়ে ঘরে রাখা মাছের খাবার নষ্ট করে এবং টাকা ও মোবাইল লুট করে। কী কারণে করেছে, কেন করছে তার কোনো সন্তোষজনক কারণ তারা বলছেন না’।

তারা আরো বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে সরকার আমাদের প্রণোদনা দিয়েছে। আমাদের খামারের যে জমিগুলো সরকারের কাছ থেকে লিজ নেয়া সেগুলো যদি প্রয়োজন হয় সরকার নিয়ে যাবে তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সরকার আমাদের নোটিশ দিলে আমরা নিজ থেকে সরে যাব, কিন্তু কোনো বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেন আমাদের খামার ভাঙচুর, লুটপাট করে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমাদের এলাকায় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তাদের মৎস্য খামার থাকলেও তাদের খামারে কোনো ভাঙচুর ও লুটপাট হয় না’।

এসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসিল্যান্ড সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘যা বলার ইউএনও স্যার বলবেন’।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব বলেন, ‘এসকেভেটর পোড়ানোর সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। চর খোয়াজ, চর লামছি, থাক খোয়াজ লামছির মৎস্য ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে চর দখল করে খাস জমিতে মৎস্য চাষ করছে। আমরা অবৈধ দখল মুক্ত করতে অভিযান চালিয়েছি। লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ সঠিক না। ব্যবসায়ীদের কোনো অভিযোগ থাকলে কাগজপত্র নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুক’।