ধর্ষক, নারী ও শিশু নিপীড়কদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমজীবী নারী মৈত্রী। সংগঠনের নেতার বলেছেন, কেবল আইন পাশ করে ধর্ষণ-নারী নিপীড়ন বন্ধ করা যাবে না। বেশীরভাগ ধর্ষক-নারী নিপীড়কেরা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে এরা বেপরোয়া। এসব দুর্বৃত্ত ও সমাজবিরোধীদের মদদ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর মানববন্ধনে বক্তার এসব বলেন।
সংগঠনের সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী বলেন, ধর্ষক, দুর্নীতিবাজ আর মুনাফাখোর বাজার সিণ্ডিকেটের হোতারা দেশের মানুষকে রীতিমত জিম্মি করে ফেলেছে। দুর্নীতিবাজ ও দুর্বৃত্তরা করোনা মহামারীকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে।
তিনি বলেন, বাজারের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং ব্যবস্থা বলেও কিছু নেই। বাজারের অবস্থা দেখলে মনে হয় না দেশে কোনো সরকার আছে। অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা মানুষের পকেট থেকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা কেটে নিচ্ছে।
মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্য দেন সাইফুল হক।
তিনি বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধানও দেশে ধর্ষণ বন্ধ করতে পারেনি। কারণ এসব আইনের তেমন কার্যকারিতা নেই। ধর্ষক ও নিপীড়কদের প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মদদদান বন্ধ না হলে এদের বেপরোয়া অপরাধ চলতেই থাকবে।
তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক শক্তি না থাকায় সামাজিক নৈরাজ্যের ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে। ধর্ষক, সন্ত্রাসী, মাফিয়া ও দুর্নীতিবাজরা সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা কেড়ে নিয়েছে। এক রাষ্ট্রের মধ্যেই এরা অনেক ছোট ছোট রাষ্ট্র গড়ে তুলেছে। প্রশাসনকে হাত করে এরা যা খুশী তাই করছে। দেশের মানুষকে রক্ষায় তাই আজ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ বেগবান করতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি বহ্নিশিখা জামালীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশিদা বেগম, যুগ্ম সম্পাদক স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকবর খান, এ্যাপোলো জামালী, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, পাদুকা শ্রমিক নেতা ইমরান হোসেন, ছাত্র সংহতির জোনায়েত হোসেন প্রমুখ।