রাজশাহী থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর চালকদের বড় একটি অংশ নেশায় আসক্ত। তারা গাড়িতে ওঠার আগে নেশা করছেন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা। বিভিন্ন সময়ে যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে তার একটি বড় কারণ হিসেবে ধরা হয় মাদকাসক্ত চালকদের। কিন্তু এই মাদকাসক্ত চালকদের চিহ্নিত করার উদ্যোগের কার্যকারিতা নেই। রাজশাহীতে শুধু হাইওয়ে পুলিশের কাছে মাদকাসক্ত চালকদের শনাক্ত করতে অ্যালকোহল ডিটেক্টর যন্ত্র থাকলেও সেটিরও ব্যবহার হচ্ছে না।
রাজশাহী পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, রাজশাহী থেকে ঢাকা, সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে প্রায় ৩৫০ বাস চলাচল করে। এসব গাড়ির প্রতিটির জন্য দুজন করে চালক নিয়োগ করা আছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব দূরপাল্লার যানবাহনের চালকদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যাই বেশি। অনেকেই গাঁজা ও ফেনসিডিলে আসক্ত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আসক্ত একাধিক চালক জানান, তারা নেশা করে গাড়ি চালান ক্লান্তি দূর করার উদ্দেশ্য নিয়ে।
রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী দেশ ট্রাভেলসের একজন স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদকাসক্তের সংখ্যা আগে অনেক বেশি ছিল। পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে মাদকের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এ কারণে চালকদের মধ্যে এ প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে, এখনো অনেকেই নিয়মিত মাদক সেবন করেন।
জানা গেছে, মুখ দিয়ে নির্গত বাতাস শুঁকে অ্যালকোহল ডিটেক্টর যন্ত্রটি চার সেকেন্ডের মধ্যে ওই ব্যক্তি মদ্যপ কি না, তা শনাক্ত করতে পারে। যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা বড় মুঠোফোন সেটের মতো। রাজশাহী মহানগর পুলিশ বা জেলা পুলিশের কাছে এ যন্ত্র নেই। রাজশাহীর সড়কে যানবাহন পরীক্ষার জন্য শুধু হাইওয়ে পুলিশকে একটিমাত্র যন্ত্র দেওয়া হয়েছে। সেটিরও ব্যবহার নেই বললেই চলে। রাজশাহী হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, পরীক্ষার জন্য গত বছরের শুরুর দিকে তারা একটি অ্যালকোহল ডিটেক্টর যন্ত্র পেয়েছেন। এরপর দিনের বেলায় কিছু পরীক্ষা হলেও রাতে এটি ব্যবহার করা হয়নি। এ পর্যন্ত এটি দিয়ে মাত্র ৫০ জন চালককে পরীক্ষা করা হয়েছে। রাজশাহী-ঢাকা রুটের ন্যাশনাল ট্রাভেলসের চালক আবদুল হালিম বলেন, ‘আমি এই রুটে প্রায় ১৫ বছর ধরে গাড়ি চালাই। কখনো এমন কোনো পরীক্ষা করতে দেখিনি। এমনকি আমাকেও করেনি।’
তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে নেশা। নেশার কারণে অনেকেই গাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। নিরাপদ সড়ক চাই-এর রাজশাহী জেলা সহসভাপতি ওয়ালিউর রহমান বাবু বলেন, নেশার কারণে যাত্রীর পাশাপাশি চালকেরও ঝুঁকি আছে। তিনি বলেন, আমাদের জানামতে, রাতের বেলায়ই বেশির ভাগ চালক মাদক গ্রহণ করে থাকেন। এ জন্য এই পরীক্ষাগুলো রাতে হওয়া দরকার।
রাজশাহীর পবা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের একটি অ্যালকোহল ডিটেক্টর যন্ত্র আছে। এটি দিয়ে আমরা পরীক্ষা করি। তবে এখন করোনার কারণে পরীক্ষা করা হচ্ছে না। করোনার ঝুঁকি থাকার কারণে কয়েক মাস ধরে এটি বন্ধ আছে। যন্ত্রটি পাওয়ার পর থেকে আমরা এ পর্যন্ত মোট ৪৬-৫০টি টেস্ট করেছি। তবে কোনোটিতেই পজিটিভ আসেনি।