৭ রানের চ্যালেঞ্জে সাকিবের ২

সাকিব আল হাসান ভয় পাওয়ার ছেলে না। সব অবস্থায় জিততে মরিয়া মনোভাবের কারণে এই বিশেষ প্রতিভার আবেদনও অনেক বেশি। কিন্তু সেই সাকিব কি এতদিন পর ফিরে আরেক পেস অল রাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জে করুণ হার মেনে বিচলিত হয়েছেন? তাই কি ‘২ ওভারের ম্যাচ চ্যালেঞ্জ’ তুলে রাখলেন!

প্রশ্নের জবাব দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল রাউন্ডার সাকিবের কাছে। এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাত্র কদিন মাঠে নেমে ব্যাটে বলে আগের মতো যা ইচ্ছে তাই করে ফেলা কি আর সম্ভব সবসময়? হয়তো সম্ভব। সাকিবের মাথায় কী কাজ করছে তা বোঝা সবসময় মুশকিল। তার পরিকল্পনাটাই অন্যরকম। আজও সাইফকে নেটে ডেকে কাজটা সেরে ফেললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

২৯ অক্টোবর খেলায় ফেরার অধিকার ফিরে পাওয়ার পর প্রিয় মিরপুরে যাতায়াত চলছে সাকিবের। রবিবারই প্রথম নেটে ব্যাট করেছেন। সীমিত ওভারের স্টাইলে। গতকাল চ্যালেঞ্জ ছিল তরুণ পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। যাকে বাংলাদেশের সামনের দিনের সেরা পেস অল রাউন্ডার ধরা হয়। তার কাছে হার বিশ্ব ইতিহাসের সেরা অল রাউন্ডারের! এবং আরেকটি চ্যালেঞ্জের জন্য সময় চাওয়া! ঘটেছে এটাই। কিন্তু এটা কি কোনো ব্যাপার?

মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এখন সবার চেয়ে চোখকাড়া মানুষটি সাকিব। সকালে মাঠে পা রাখার পর পরিশ্রমের পরিধি বেড়েছে এবং মিডিয়ার তাই একটু বেশি চোখ তার ওপর না রেখে উপায় নেই। কীভাবে সাকিব নিজেকে এত অল্প সময়ের মধ্যে ২৪ তারিখ শুরু বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য তৈরি হতে পারবেন?

গতকাল সকাল ১০টার দিকে এলেন। তার কিছুক্ষণ আগে খেলেছেন দুই পেসার সাইফউদ্দিন, ইয়াসিন আরাফাতের ডেলিভারি। এরপর সাকিব শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে ছিলেন মিনিট বিশেক। গ্রানাইট বসিয়ে তার ওপর বলের নাচনের চ্যালেঞ্জ নিলেন। বোলিং মেশিনের চেয়েও বড় পরীক্ষায় নিজেকে ফেললেন। স্বাভাবিকভাবে এই পন্থায় বলের গতি বাড়ে। উচ্চতা বাড়ে। রিচের মধ্যে আসা বল একটাও বুঝি ছাড়েননি সাকিব। আগ্রাসী ছিলেন। উড়িয়ে মেরেছেন। বড় শট খেলেছেন চোখের পলকে। লাফানো বলে বাউন্ডারি ওভার বাউন্ডারির প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে কসুর ছিল না। আরও কত কি! স্কিল সেশনের দ্বিতীয় দিনের এইটুকু সময়ের এই আগ্রাসনে সাকিবের ভেতরে টগবগ করতে থাকা জেদটা বুঝি স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বাউন্সি উইকেটেও যাতে সমস্যা না হয় তা ঝালাই করে নিতে সময়ই নিলেন না সাকিব। শীতের আগমনী সময়ে বলের মুভমেন্ট, বাউন্স, বৈচিত্র্য সামলানোর একটা চমৎকার ট্রায়াল করে নিলেন। এছাড়া দেশের বাইরে পেসারদের সামলাতেও এটা বড় কার্যকর অনুশীলন।

কিন্তু আলোচনায় ছিল বেশ কিছুদিন আগে সাইফউদ্দিনের একটা মনের ইচ্ছে ও তার বাস্তবায়নের স্বপ্ন। সোমবার সাকিবকে বেশ আগে থেকে দেওয়া ২ ওভারের চ্যালেঞ্জটা নিয়ে উত্তেজিত ছিলেন ফেনীর পেসার। তার ২ ওভারে সাকিবের ২২ রান করার চ্যালেঞ্জ। ডানহাতি পেসার অবশ্য সবকিছু শেষ করে জানালেন, ‘দুই ওভারে ২২ রানের যে ম্যাচটি খেলার কথা ছিল সেটা খেলা হয়নি। চ্যালেঞ্জ ম্যাচটি সাকিব ভাই আজ খেলেননি। নিজেকে মানিয়ে নিতে আরেকটু সময় নিয়েছেন। হয়তো অনেকদিন পর ব্যাটিং শুরু করেছেন তাই।’

ইনডোরের আউটারের নেটে এমনিতে সাকিবকে বল করছিলেন সাইফ। তখন একটা বিকল্প রফা হয় এই দিনের জন্য। শর্তÑ সাকিবকে সাইফউদ্দিনের ৪ বলে ৭ রান তুলতে হবে। কিন্তু দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান নিতে পেরেছেন মোটে ২। এমন একজনের বিপক্ষে হোক তা অনুশীলনে তারপরও বড় জয়ে সাইফউদ্দিন উদযাপনের বিস্ফোরণ ঘটাতে ভোলেননি, ‘অনুশীলনের মাঝে সালাউদ্দিন ভাইকে আম্পায়ার রেখেই উনাকে ৪ বলে ৭ রানের একটা টার্গেট দিয়েছিলাম। সেখানে আমি জিতেছি। এই জন্যই উদযাপন করছিলাম। সাকিব ভাই মাত্র ২ নিয়েছেন।’

সাকিবের জার্সির নম্বর ৭৫। সাইফউদ্দিনের ৭৪। ১২ বলে ২২ রান নেওয়ার সাকিব-সাইফউদ্দিন লড়াইটা এর মধ্যে পেয়ে গেছে ‘৭৫-৭৪’ নামটা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আড্ডায় এর মধ্যে উত্তাপ ছড়াচ্ছে এই ৭৫-৭৪।