কয়েকটি দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনে উদ্বেগ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

সাম্প্রদায়িক হামলার পাশাপাশি কিছু দেশের জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় সমাজে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়াতে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ প্রচারের ওপর জোর দেন তিনি।

পোল্যান্ড আয়োজিত ধর্মীয় স্বাধীনতা বা বিশ্বাসের উন্নয়নের উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গতকাল মন্ত্রী বলেন, অসহিষ্ণুতার মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি সম্মিলিত ‘পুরো সমাজ’ দৃষ্টিভঙ্গি এবং সব অংশীজনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দৃঢ় অংশীদারত্ব প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার ও নিপীড়ন এবং বাংলাদেশে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়ের কথা উল্লেখ করেন।

ড. মোমেন কভিড-১৯ মহামারির প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ঘৃণামূলক মনোভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তি ও সম্প্রীতি অর্জনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে একে অপরের প্রতি সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধার মানসিকতার তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখেছে এবং তাদের ধর্মীয় প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় তুলে ধরে ড. মোমেন যে কোন অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি যে কোন ধরনের সহিংসতা ও বৈষম্যের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, কুয়েত, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, উজবেকিস্তান, স্লোভাকিয়া, মরক্কো, লাটভিয়া, কাজাখস্তান ও স্বাগতিক পোল্যান্ডসহ অর্ধ শতাধিক দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন।