স্প্যানিশ আর্মাডায় বিধ্বস্ত জার্মান প্রাচীর

পর্তুগাল, ইংল্যান্ডের পর আরেক জায়ান্ট জার্মানিও বিদায় নিয়েছে নেশন্স লিগ থেকে। তাদের ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালস নিশ্চিত করেছে স্পেন। হ্যাটট্রিক করেছেন ফেরান তোরেস। ৮৯ বছরের মধ্যে এটি জার্মানির শোচনীয়তম হার। ১৯৩১ সালে এক প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রিয়ার কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল জার্মানরা।

সেভিয়ার মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল স্বাগতিক স্পেন। প্রথমার্ধে আলভারো মোরাতা, তোরেস এবং রদ্রি একটি করে গোল করেন। বিরতির পর ৫৫ ও ৭১ মিনিটে আরও দুই গোল করে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা তোরেস। জার্মানদের বিপক্ষে প্রথম স্প্যানিশ হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন তিনি। ৮৯ মিনিটে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ২৩টি শট নেয় স্পেন। জার্মানি এর আগে সবশেষ ছয় গোল হজম করেছিল ১৯৫৮ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। সেবার ফ্রান্স ৬-৩ ব্যবধানে জিতেছিল।

হারের পর জার্মান কোচ জোয়াকিম লো বলেন, ‘আমি জানি না তাদের (খেলোয়াড়) কী হয়েছে। আমাদের কোনো সুযোগই ছিল না। মাঠে কোনো ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। স্পেন দারুণ খেলেছে। আমাদের চেয়ে তাদের গতিও ছিল বেশ।’ এদিন কোনো কিছু নিজেদের পক্ষে ছিল না মনে করেন জার্মান মিডফিল্ডার সার্জ নাব্রি। তিনি বলেন, ‘কোনো কিছুই আমাদের অনুকূলে ছিল না। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, জয়টা তাদের প্রাপ্য ছিল। স্পেন সবকিছু ঠিকঠাক করেছে এবং আমরা কিছুই ঠিকমতো করতে পারিনি। আমরা জানি না এখন আমরা কোন পর্যায়ে আছি।’

ফ্রান্স ও পর্তুগালের জয়

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জয় পেয়েছে ফ্রান্স ও পর্তুগাল। স্বাগতিক ফ্রান্স ৪-২ গোলে হারিয়েছে সুইডেনকে। ফরাসিদের হয়ে জোড়া গোল করেন অলিভিয়ের জিরু। এ ছাড়া একটি করে গোল করেন বেঞ্জামিন পাভার্ড ও কিংসলে কোমান। আগের রাউন্ডে পর্তুগালকে বিদায় করে দিয়ে ফাইনালস নিশ্চিত করেছিল ফ্রান্স। সেই হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো পর্তুগাল ৩-২ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। নিজেদের মাঠে শুরুতে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায় মাতেও কোভাচিচের গোলে। সেই গোল শোধ করেন রুবেন ডিয়াস। এরপর জোয়াও ফেলিক্সের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান কোভাচিচ। ৯০ মিনিটের সময় ডিয়াস নিজের দ্বিতীয় গোল করলে জয় নিশ্চিত হয় পর্তুগালের। পরাজয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ক্রোয়েশিয়া। চারে থাকা সুইডেনের পয়েন্ট সমান ৩ তাদের। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বি লিগে নেমে যেতে হয়েছে সুইডেনকে।