তোড়জোড় শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু কাপ টি-টোয়েন্টির। টুর্নামেন্টের কিছুদিন বাকি থাকলেও জার্সি উন্মোচন হয়ে গেছে দলগুলোর। অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেছে বাকি তিন দল বেক্সিমকো ঢাকা, গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ও মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। প্রথমবারের মতো ঢাকার হয়ে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলছেন মুশফিকুর রহিম। প্রথম আসরে অভিজ্ঞতার ভারে তাকেই দেওয়া হয়েছে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড। এদিকে তারুণ্যনির্ভর রাজশাহীর অধিনায়কও একজন তরুণ। ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত এই আসরে দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন। চট্টগ্রাম দলে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক থাকলেও নেতৃত্ব দেবেন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন।
ফরচুন বরিশাল সবার আগে তামিম ইকবালকে অধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সাকিব আল হাসান দলে থাকলেও জেমকন খুলনা আর্মব্যান্ড দিয়েছে জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।
দুরন্ত রাজশাহী, সিলেট রয়্যালস, সিলেট সুপারস্টারস, বরিশাল বুলস, রাজশাহী কিংস, চিটাগাং ভাইকিংস ও খুলনা টাইগার্সের হয়ে বিপিএল খেলেছেন মুশফিক। এবারই প্রথম ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ঢাকার হয়ে খেলতে যাচ্ছেন দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান। আগের কোনোবারই শিরোপা জিততে না পারা মুশফিকের একমাত্র লক্ষ্য ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ তিনটি শিরোপা জেতা ঢাকার হয়ে ট্রফি জয়। এক ভিডিও বার্তায় আশাবাদী কণ্ঠে মুশফিক বলেছেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বেক্সিমকো ঢাকায় খেলতে যাচ্ছি। আমাদের দলটা তরুণ ও অভিজ্ঞের মিশেলে দারুণ সমন্বয় হয়ে আছে। বেক্সিমকো সব সময়ই শিরোপা জিততে লড়াই করে, এবারও সেটার ব্যতিক্রম হবে না। আমরা অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন ফাইনাল খেলতে পারি এবং শিরোপা জিততে পারি। আর আমি আমার সুনাম অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করব এবং কাক্সিক্ষত ফল আনার চেষ্টা করব।’
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে সবচেয়ে সাদামাটা দল রাজশাহীর। প্লেয়ার্স ড্রাফট থেকে ‘এ’ গ্রেডের কোনো খেলোয়াড়ই নেয়নি তারা। এমনকি জাতীয় দলে খেলেন এমন ক্রিকেটারও মাত্র তিনজন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ইবাদত হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। এ দলটি তরুণ নেতা নাজমুলের ব্যাটেই বড় ভরসা রাখছে। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে নাজমুলের দল ফাইনালে উঠেছিল। এ টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বগুণ নজর কাড়ে সবার। টপ অর্ডারে দলের ব্যাটিংয়ে মূল কাজটা করার পাশাপাশি নেতৃত্বেও দেখা যাবে এই বাঁহাতিকে। দলের মূল শক্তির জায়গা সাইফউদ্দিন, শান্ত বা শেখ মেহেদির মতো তরুণরা। অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া শান্ত জানান, ‘এই দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ। অনেক লম্বা একটা টুর্নামেন্ট। তাই আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে আমরা এগোতে চাই। দল নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি যে, ঘরোয়া ক্রিকেটে যারা পারফরমার, প্রতি বছর যারা ভালো ক্রিকেট খেলে, তারাই আমাদের দলে আছে। দল নিয়ে বলব যে খুব ভালো একটা দল হয়েছে। আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের জন্যই খেলব।’
চট্টগ্রাম দল বেশ তারকানির্ভর। মোস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকার এই দলের তারকা। দেশের অন্যতম সেরা কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অধীনে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে শিরোপাহীন চট্টগ্রাম। সেই দলের দায়িত্ব পাওয়া অধিনায়ক মিঠুন বলেছেন, ‘নেতৃত্ব নিয়ে আমার কোনো রোমাঞ্চ নেই। আমি আগেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছি। তবে চেষ্টা থাকবে নেতৃত্বে ভালো করা এবং ব্যাট হাতেও দলকে যথাসম্ভব এগিয়ে রাখা।’