ইসরায়েলকে বর্জন আন্দোলন ইহুদিবিরোধী: জেরুজালেমে পম্পেও

দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি এলাকা পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনিই হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, যিনি পশ্চিম তীরে গেলেন।

ভয়েস অব আমেরিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীর পরিদর্শন করেন পম্পেও।

এদিনও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইসরায়েলকে বর্জন এবং পরিহার করার পক্ষের আন্দোলন মূলত সেমেটিক-বিরোধী বা ইহুদিবিরোধী।

জেরুজালেমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে পম্পেও বলেন, এই প্রচেষ্টাকে যে সব সংগঠন সমর্থন করে, পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে তাদের সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নেবে।

ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশনস বা বিডিএস আন্দোলনের সমর্থকেরা বলছেন, এটি হচ্ছে ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ এবং যা ১৯৮০ এর দশকের বর্জন আন্দোলনের আদলে করা হয়েছে। ওই আন্দোলন দক্ষিণ আফ্রিকাকে বর্ণবাদের পরিসমাপ্তি ঘটাতে চাপ দিয়েছিল। সংগঠকেরা এ কথা অস্বীকার করেন যে এ আন্দোলন সেমিটিক বিরোধী। তবে  ইসরায়েল বলছে এই আন্দোলনের অর্থ হচ্ছে সেমিটিজমকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন, আগেকার নীতি পরিহার করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে আনা এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে অবৈধ মনে না করার মতো যে সব পদক্ষেপ নিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং পম্পেও সে জন্যে পরস্পরকে অভিনন্দন জানান।

পম্পেও গোলান মালভূমিতে যাবেন বলে উল্লেখ করেন, যে অঞ্চলটি ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের এই অংশটির প্রতি স্বীকৃতি প্রদানের যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, তা এটিকে ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রদান এবং বাস্তবতাকে স্বীকার করে নেওয়া।

গোলান মালভূমি ইসরায়েলের অধিগ্রহণে থাকার বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি।

পম্পেও এর পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব সফর করবেন। এর আগে তিনি ফ্রান্স সফর করেন।