লোহাগড়ায় স্ত্রীর ‘হয়রানি’ থেকে মুক্তি পেতে স্বামীর মানববন্ধন

নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীর ‘হয়রানি ও ষড়যন্ত্র’ থেকে পরিত্রাণ পেতে মানববন্ধন করেছেন স্বামী আবজাল হোসেন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে আবজাল হোসেনের পরিবার ও গ্রামবাসী অংশ নেন।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে ভুক্তভোগী জয়পুর গ্রামের আবজাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্ত্রী মিনা বেগম বেশ কিছুদিন আগে আমার বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর আমার নামে আদালতে অসত্য তথ্য দিয়ে মামলা করে হয়রানি করছে। সংসারে থাকাকালীন স্ত্রী মিনা বেগম আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কখনো কাউকে বলতে পারিনি।  বর্তমানে আমার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সামিয়া খাতুনকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ ব্যবসার কাজে আমি বাইরে থাকার সুযোগে গত ১ জুন মিনা বেগম আমার বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, ফ্রিজসহ দামি জিনিস ও আসবাবপত্র নিয়ে যায়। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় গত ২৬ জুন মামলা দায়ের করি। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। বর্তমানে আমাকে ও আমার মেয়ে সামিয়াকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমি ওই নারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চাই’।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লোহাগড়া পৌর কাউন্সিলর বিশ্বনাথ দাস, মো. তজিবর রহমান, শাহরিয়ার মারুফ, আলী সিকদার, সাবেক মেম্বর মো. টুকু সিকদার প্রমুখ। 

জানা গেছে, ২০০৮ সালে লোহাগড়া পৌরসভার জয়পুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আবজাল হোসেনের সঙ্গে নড়াইল সদর উপজেলার চিলগাছা রঘুনাথপুর গ্রামের আয়ুব মোল্যার মেয়ে  মিনা বেগমের বিয়ে হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্ত্রী মিনা বেগম ফোনে বলেন, ‘আমি স্বামীর নির্যাতনের কারণে সাত মাস আগে তালাক দিয়ে দিয়েছি। আমি কোনো হয়রানি বা ষড়যন্ত্র করিনি। বরং আমার নামে আরো মামলা-মোকদ্দমা করে আমাকে হয়রানি করে চলেছে। আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’