পাখির বাসা রক্ষা

ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে বাগানমালিকদের

পাখির গ্রাম হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা। অতিথি পাখির পদচারণায় মুখর এ গ্রামে দূরদূরান্ত থেকে আসেন পাখিপ্রেমীরা। কিন্তু যেসব গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে সেই গাছের মালিকরা গত কয়েক বছর ধরেই পাখি নিয়ে খানিকটা বিরক্ত। পাখির বাসা ভেঙেও দিয়েছেন তারা। তবে পাখিদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছে সরকার। সেই আমবাগানের পাখির বাসার ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা দেখে এসেছেন পাখির বাসা। যেসব আমবাগানে পাখিরা এ বছর বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে সেগুলোর মালিকদের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন তারা। পাঁচজন বাগানমালিক পাখির বাসার জন্য ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা পাচ্ছেন।

পাখির অবস্থা দেখতে ঘটনাস্থলে যান বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল ঢাকার বন সংরক্ষক মিহির কুমার, রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) জিল্লুর রহমান, রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদীজ্জামান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন, ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জার হেলিম রায়হান ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর। ক্ষতিপূরণ পাওয়া আমবাগানমালিকরা হলেন খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের মঞ্জুর রহমান, সানার উদ্দিন, সাহাদত হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও ফারুক আনোয়ার।

গত বছর অক্টোবরের শেষে যখন পাখি বাচ্চা ফুটিয়েছিল ওই সময় আমবাগানের কয়েকজন ইজারাদার বাগানের পরিচর্যা শুরু করেন। তারা পাখির বাসা ভেঙে আমগাছ খালি করতে চেষ্টা করেন। বিষয়টি আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রজ্ঞা পারমিতা রায়। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এক আদেশে বলে, কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ঘোষিত আদেশে এলাকাটি অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগানমালিক ও বাগানের ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা পাখির বাসার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮টি আমগাছ চিহ্নিত করে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি নির্ধারণ করেন।