পুলিশ কনস্টেবলের ‘অসম্মান’: আত্মহননের হুমকি মুক্তিযোদ্ধার

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে পুলিশ কনস্টেবল কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কনস্টেবলের শাস্তি না হলে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ চন্দ্র মন্ডল। মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মানিক চন্দ্র মন্ডলের ছেলে।

সোমবার দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রবিবার আশাশুনির বাইপাস সড়ক দিয়ে আসার সময় আশাশুনি থানা পুলিশ আমাকে দাঁড় করালে আমি জানতে চাই ‘কাকা কী হয়েছে’। তখন কনস্টেবল সোহাগ আমাকে বলে ‘মোটরসাইকেলে কী ... লাগিয়েছ’। তখন আমি কনস্টেবলকে বলি কাকা আমি মুক্তিযোদ্ধা আমি আপনার পুলিশ সুপারকে এ কথা জানাব। এরপর কনস্টেবল সোহাগ অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এসব বক্তব্য রাখতে রাখতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ সংবাদ সম্মেলনের সময় হাতে থাকা কীটনাশকের বোতল দেখিয়ে বলেন, আপনাদের (উপস্থিত সাংবাদিকদের) সাক্ষী রেখে বলছি ‘অভিযুক্ত কনস্টেবলের শাস্তি না হলে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করব’।

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহাগ হোসেন ফোনে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দিনেশ মন্ডলকে হর্ন বাজাতে বললে তিনি রাজি না হয়ে আমাকে বকাঝকা দিতে থাকেন। তবে ওনার মোটরসাইকেলে হাইড্রোলিক হর্ন না থাকলেও উচ্চ মাত্রার এলইডি লাইট ছিল। তা খুলে ফেলা হলে তিনি রেগে যান এবং বলেন ‘তুমি আমার মোটরসাইকেলের লাইট খুলেছ, আমি তোমার পোশাক খুলে ফেলব’। আমি বলি, ‘আপনি চাইলে থানা থেকে লাইটটি নিতে পারেন’। এ সময় তিনি আরো রেগে যান। ওনার সঙ্গে আমার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়নি। শত শত মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আমাকে বকাঝকা দিতে থাকেন। তিনি বারবার বলতে থাকেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা আমি তোমাকে দেখে নেব’।

সেখানে দায়িত্বে থাকা সাব ইন্সপেক্টর ফকির জুয়েল রানা বলেন, রবিবার উচ্চমাত্রার এলইডি লাইট ও অবৈধ হাইড্রোলিক হর্নের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল বলে মোটরসাইকেল ও মানুষের ভিড় জমলে সেটা সামাল দিতে থাকি। সে সময় আমি কনস্টেবল সোহাগের কাছ থেকে একটু দূরে ছিলাম। ফিরে দেখি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কনস্টেবলের বাগ্‌বিতণ্ডা চলছে। আমি ফিরলেই উভয়েই বিরত হন। আমি মুক্তিযোদ্ধার সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে তিনি যেভাবে অভিযোগ করছেন ঘটনাটি সেরকম নয়।

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। এ ঘটনা নিয়ে যেভাবে অভিযোগ করেছেন সেভাবে হওয়ার কথা নয়। অভিযান চলাকালে যে ভিড় ছিল তার মধ্যে একজন ব্যক্তি প্যান্টের চেইন খুলে দেখাতে পারেন না। তারপরও ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।