হেমন্তের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে মৃদু শীতের আমেজ। সকাল ও সন্ধ্যায় দৃষ্টি প্রসারিত করলেই শে^তশুভ্র কুয়াশার রেখা। দূরদিগন্ত থেকে ভিনদেশি পাখি উড়ে আসার এই তো সময়। শীত জাঁকিয়ে বসার আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আতিথ্য নেয় অতিথি পাখিরা। এবারও কথা রেখেছে তাই। উত্তরের শীতল বাতাসে ভর করে পাড়ি জমিয়েছে দূরের, তবু চেনা এই রাজ্যে। প্রতি বছর অক্টোবরের শুরুতে শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত, হিমালয়ের পাদদেশ, চীনসহ এ দেশেরই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসে এই পরিযায়ী পাখিরা। তীব্র শীত ও খাদ্যাভাব থেকে বাঁচার জন্যই তাদের আগমন ঘটে। শীতের আমেজ শেষ হওয়া অবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য জলাশয় দখলে থাকে এই অতিথিদের।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ এই বন্ধে শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাস এখন নীরব-নিস্তব্ধ। আর কোলাহল ও মানুষের উৎপাতের অনুপস্থিতিকেই যেন সুযোগ করে নিয়েছে পাখিরা। ক্যাম্পাসের স্থল, জল আর আকাশকে নিজেদের করে নিয়েছে এরা। প্রকৃতি আর পাখিদের কলতান দিনভর মুখর করে রেখেছে সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেক ও পরিবহন চত্বরসংলগ্ন লেকে এবার পাখির উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের ভেতরের লেক ও সুইমিংপুলসংলগ্ন জয়পাড়া লেকে পাখির আগমন ঘটেছে।
এ বছর বেড়েছে পাখির সংখ্যা ও প্রজাতি। গত বছরের ডিসেম্বরে পাখিশুমারিতে ক্যাম্পাসে পাঁচ হাজারের কিছু বেশি পাখি এসেছিল বলে রেকর্ড করা হয়। তবে এবার শুরুতেই পাঁচ হাজারের মতো পাখি এসেছে বলে প্রাথমিক শুমারিতে জানা গেছে। একই সঙ্গে গত বছর পাঁচ প্রজাতির পাখির আগমন ঘটেছিল। তবে এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি লেকে সাত প্রজাতির পাখি এসেছে।
পাখি বিশেষজ্ঞ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, ‘এ বছর বেশিসংখ্যক পাখি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি পাখি দেখা যায়। তবে বিগত বছরগুলোতে ডিসেম্বরে যে পরিমাণ পাখি এসেছিল, এবার নভেম্বরেই আমরা সেই সংখ্যক পাখি দেখতে পেয়েছি।’