কাগজে-কলমে মধ্যবিত্তের দল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। তার ওপর গোড়ালির চোটে ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। কিন্তু সেই দলটিই কাল বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী বেক্সিমকো ঢাকাকে হারিয়ে দিল ২ রানে।
সজীব উইকেটে শেখ মাহাদী হাসান আর নুরুল হাসানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটে ১৬৯ রানের লড়িয়ে পুঁজি পেয়েছিল রাজশাহী। তবু লক্ষ্যটা ছিল বেক্সিমকো ঢাকার নাগালেই। শেষ ২ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৩০ রান। ফরহাদ রেজার ১৯তম ওভারে তিন ছক্কায় ২১ রান তুলে ফেলেন বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেওয়া মুক্তার আলি। শেষ ওভারে দরকার কেবল ৯ রান। রোমাঞ্চ ছড়াল শেখ মাহাদীর অফস্পিন। স্ট্রাইকে মুক্তার। কিন্তু ৭ বলের ওভারটিতে একটি চার, নো বলের জন্য এক এবং শেষ বলে সিঙ্গেল নিতে পেরেছেন ১৬ বলে ২৭ রান করা মুক্তার। ৩২ বলে ৫০ রানের সঙ্গে ৪-০-২২-১ বোলিংয়ের জন্য মাহাদী হন ম্যাচসেরা।
বড় কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে নামতে হয়েছিল শেখ মাহাদীকে। ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রিত রাজশাহী ১০ম ওভারে ৬৫। ওই অবস্থায় উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে যোগ দিয়ে দলকে টেনে তোলেন শেখ মাহাদী। ৫১ বলে দুজনের ৮৯ রানের জুটিতে প্রাণ ফেরে ম্যাচে। দুজনে মেরেছেন ৫টি বাউন্ডারি আর ৭টি ছক্কা। এর মধ্যে ৩ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৩২ বলে ৫০ রান করে বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার বলে আউট হন শেখ মাহাদী। আর ২০ বলে ৩৯ রান তোলা সোহান তৃতীয় শিকার হয়েছেন মুক্তারের।
১৭০ রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় আগ্রাসী ব্যাট করছিলেন। কিন্তু তার ঝড় তোলার সম্ভাবনা নিভেছে রানআউটে। নড়বড়ে ইয়াসির আলি ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। তিনে নামা নাঈম শেখ থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। ২ চার ও ২ ছক্কায় তার ২৬ রানের ইনিংস ফুরোয় আরাফাত সানির বলে। ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারানো দলটি চাপ সামলে পথে ফেরে মুশফিক ও আকবরের ব্যাটে। পরিস্থিতি সামলে দুজনে খেলা নিয়ে আসেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে। তবে ৫৩ বলে তাদের ৭১ রানের জুটি ভেঙে দেন ফরহাদ রেজা। মিড উইকেট দিয়ে ওড়াতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন আকবর। দলকে হতাশায় ডুবিয়ে খানিক পর বিদায় হয় মুশফিকেরও। ইবাদত হোসেনের বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে ৪১ রান (৩৪ বলে) করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে দেন তিনি। এরপর মুক্তার নেমে জয়ের অবস্থায় নিয়ে গেলেও শেখ মাহাদীর দারুণ বুদ্ধিমত্তার বোলিংয়ে ২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজশাহী।
শেষ ওভারটি সম্পর্কে ম্যাচ শেষে মাহাদী বলেছেন ‘প্রথমত, আমার অনেক বিশ্বাস ছিল। দ্বিতীয়ত, অধিনায়কের অনেক বিশ্বাস ছিল আমার ওপর। দলের অন্যরাও আমাকে বিশ্বাস করছিল। বিশ্বাসের জন্যই আমি যেটা করতে চেয়েছিলাম, সেটা হয়ে গেছে। ডেলিভারিগুলো পারফেক্ট ইয়র্কার হয়েছে। সফল হতে পেরেছি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী : ২০ ওভারে ১৬৯/৯ (শান্ত ১৭, ইমন ৩৫, রনি ৬, আশরাফুল ৫, ফজলে মাহমুদ ০, নুরুল ৩৯, মাহাদী ৫০, ফরহাদ ১১*, আরাফাত ০, মুগ্ধ ০, ইবাদত ২*; রুবেল ০/২৯, মেহেদী রানা ১/৩১, নাসুম ১/৪১, মুক্তার ৩/২২, নাঈম ১/৩২, সাব্বির ০/১১)।
বেক্সিমকো ঢাকা : ২০ ওভারে ১৬৭/৫ (তানজিদ ১৮, ইয়াসির ৯, নাঈম ২৬, মুশফিক ৪১, আকবর ৩৪, সাব্বির ৫*, মুক্তার ২৭*; শেখ মাহাদী ১/২২, ইবাদত ১/৩৬, মুকিদুল ০/৩৫, আরাফাত ১/৩৮, ফরহাদ ১/৩৩)।
ফল : ২ রানে জয়ী রাজশাহী।
ম্যাচসেরা : শেখ মাহাদী হাসান।