করোনাকালীন ছুটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সেশনজটের কারণে অসম্পূর্ণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষসহ অন্যান্য বর্ষের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের পক্ষে ১৩ বিভাগের প্রতিনিধি শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আবেদনপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা এই সংকট সময়ে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সময়ে বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হচ্ছে কিন্তু অংশ নেয়া যাচ্ছে না কেবল স্নাতক শেষ সেমিস্টারের পরীক্ষা দিতে না পারার কারণে। সেই সঙ্গে স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য বর্ষের অসমাপ্ত পরীক্ষাগুলো গ্রহণের দাবিও জানানো হয় প্রশাসনকে দেয়া চিঠির মাধ্যমে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্নাতক শেষ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে জমায়েত করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হয়। তখন আতঙ্কিত হয় না প্রশাসন। অন্যদিকে শুনেছি অনলাইন ক্লাস নেয়ার পরেও নাকি প্রমোশন হয় তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীদের কেন প্রমোশন হতে পারে না? আমরা আসন্ন ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করতে চাই।
এই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হলে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে এবং এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই দায় উপাচার্য স্যারকে নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শক ও উপদেষ্টা ড. শেখ সুজন আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের দেয়া চিঠিতে করা আবেদনের সঙ্গে আমি একমত। আমি আগেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম আমি আবার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবিটিও উপাচার্য স্যারের কাছে তুলে ধরব যেন শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু পায়।
অন্যদিকে রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসির সাথে যোগাযোগ করছে এই বিষয়ে কি করা যায় সেই সাথে আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরও কাজ করতে হয়। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি প্রশাসন দেখছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সিদ্ধান্ত না জানায় তবে পরবর্তী ৩ দিন ফেইসবুকে শত পোস্টে উপাচার্যকে ট্যাগ করে প্রতিবাদ জানানো হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৩টি বিভাগ রয়েছে যার মধ্যে ১০টিরে বেশি বিভাগে ভয়াবহ সেশনজট থাকার অভিযোগ রয়েছে।