সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র পদে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকেজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। উচ্চ আদালতের আদেশে ৪৬ মাস পরে তিনি স্বপদে পুনর্বহাল হলেন।
এ উপলক্ষে এ দিন তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা শাহজাদপুর শহরে বিশাল শোডাউনের আয়োজন করেন। সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়। এরপর ১১টার দিকে সড়ক পথে ঢাকা থেকে তিনি এসে পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর তিনি পায়ে হেঁটে বিসিক বাসস্ট্যান্ড থেকে পৌর কার্যালয়ে আসেন।
তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক, সচিব নাসির আলম সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের হামলা সংঘর্ষে সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এ ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে মেয়র হালিমুল হক মিরুকে আসামি করা হয়। এর এক সপ্তাহ পর তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যান। স্থানীয় সরকার বিভাগ ওই বছরের ১৯ জুন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর তিনি ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। এরপর আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১ মাস আগে মেয়র পদ ফেরত পান। মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষে তিনি এদিন আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বপদে অধিষ্ঠিত হন। তার এই পুনর্বহালের তার সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন।
এ বিষয়ে মেয়র হালিমুল হক মিরু বলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলায় আসামি করে জেলে পাঠিয়েছিল। আদালতের কাছে তাদের সে ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হওয়ায় উচ্চ আদালত আমাকে জামিন দিয়ে স্বপদে পুনর্বহাল করেছে।
তিনি আরও বলেন, শিমুল হত্যার সঠিক বিচার আমিও চাই। এ হত্যার যাতে সঠিক বিচার হয় তার জন্য তদন্তর জন্য লড়তে হয় লড়ব।
তিনি বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর শাহজাদপুর পৌরসভার নির্বাচন। ফলে এ সময়ের মধ্যে যতদূর সম্ভব শাহজাদপুর বাসির উন্নয়নে কাজ করে যাব। আর দল যদি আবারও আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমার অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত করব।