ডিয়েগো ম্যারাডোনার দুই জীবন। একটি ফুটবল মাঠের শিল্পী। আরেকটি মাদকের অন্ধকার গলিতে নিরন্তর যাওয়া-আসা। এই আসক্তি প্রভাব ফেলে তার ফুটলার জীবনেও। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন একজন। কিংবদন্তির ব্রিটিশ গিটারিস্ট এরিক ক্ল্যাপটন। অ্যান্টিগায় নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘ক্রসরোড’-এ ম্যারাডোনাকে রেখে সুস্থ করে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। ক্লিনিকে ম্যারাডোনাকে নিতে খুব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার, খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি।
এই প্রচেষ্টার সঙ্গে ছিলেন ক্ল্যাপটনের এক ব্রিটিশ বন্ধু এবং পেশাদার একজন সাংবাদিক। ক্ল্যাপটন যখন প্রথম এই উদ্যোগ নেন, ম্যারাডোনা তখন কিউবায়। সেখানে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা খুব কঠিন ছিল। কারণ ফুটবল ঈশ্বর প্রতিনিয়ত মোবাইল পরিবর্তন করছেন। মাদকাসক্তি থেকে পরিত্রাণ পেতেই কিউবা গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা কিন্তু ফল হচ্ছিল উল্টো। ভালো হওয়ার বদলে আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল। এমন সময় এরিককে জাপান সফরে যেতে হয়। ম্যারাডোনা তখনো কিউবায় এবং প্রতিদিন তার সেলফোনটি পরিবর্তন করছিলেন। অবশেষে দুজনের আলাপ হয় এক মধ্যরাতে। দুজনের কথা বোঝানোর জন্য একজন অনুবাদকও উপস্থিত ছিলেন। সেই আলাপে ক্ল্যাপটন ম্যারাডোনাকে তার প্রশংসা, নিজের চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয়তা, তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন। সব শুনে ক্রসরোডে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন ম্যারাডোনা। ক্ল্যাপটন পরিশ্রমের শেষে আলো দেখছিলেন। ম্যানেজার কপোলাও আশায় বুক বাঁধলেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় কথা দিয়েও ম্যারাডোনা ক্রসরোডে ক্লিনিকে যাননি। তিনি কিউবাতেই ছিলেন। আর এরপর এরিক ও ম্যারাডোনার আর কখনো কথাও হয়নি। এভাবেই থেমে যায় ম্যারাডোনাকে অন্ধকার পথ থেকে আলোয় নিয়ে আসার এক চেষ্টা।