নারী গণসমাবেশে বক্তারা

ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ধর্ষকরা পার পেয়ে যায়

সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী-শিশু নিপীড়ন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জোরদার করার আহ্বানসহ জানিয়েছেন প্রগতিশীল নারী সংগঠনগুলোর নেত্রীরা। তারা বলেন, ‘নারী, শিশু ধর্ষণ নির্যাতনের একশটি মামলার ৯৭টিরই  বিচার হয় না। ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও অর্থের দাপটে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ফলে ধর্ষকরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো মানুষ ধর্ষক হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। সমাজের নানা অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণবিধির মধ্যেই সে ধর্ষক হয়ে ওঠে। ধর্ষণের অন্যতম কারণ সমাজে নারী-পুরুষের অধিকারের সীমাহীন অসমতা, সমাজে নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা না দেওয়া, অধস্তন হিসেবে দেখা, বল প্রয়োগের অপরাজনীতি, বিচারহীনতা, মৌলবাদ, প্রতিক্রিয়াশীলদের কূপম-ূক দৃষ্টিভঙ্গি, নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন, মাদক, পর্নোগ্রাফি সর্বোপরি ভোগবাদী পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। 

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, ‘সারা দেশে ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কল-কারখানাসহ দেশের কোনো একটি জায়গা নেই যেখানে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন না। একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়ন ঘটে চলেছে আর একটি ঘটনা বর্বরতায়, বীভৎসতায় আগেরটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। এসব ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ভয়াবহতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হানাদারবাহিনী দ্বারা সংঘটিত নারী নির্যাতনকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। আর অন্যদিকে দেশে চলছে বিচারহীনতার প্রবণতা। নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের ১০০টি মামলার ৯৭টিরই কোনো বিচার হয় না। ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ও অর্থের দাপটে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তার ফলে ধর্ষকরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সোমা দত্ত প্রমুখ। সমাবেশের আগে একটি মিছিল শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে বাটা মোড়, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, কাঁটাবন হয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়।  সমাবেশে ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবিতে মাসব্যাপী জেলায় জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি সফল করার ঘোষণা দেওয়া হয়।