রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস’র (ইউল্যাব) দুই শিক্ষার্থী সাদাত মাহমুদ ও রায়হান আতিকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন টিউশন ফি ও করোনাকালীন সেমিস্টার ফি মওকুফের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্র ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘করোনার কারণে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা বিপর্যস্ত। এর মাঝে টিউশন ফি তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে তারা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আচরণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মতো হতে পারে না। অবিলম্বে ইউল্যাবের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি অভিন্ন টিউশন ফি ও অভিন্ন গ্রেডিং ফি নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে’।
তিনি বলেন, দ্রুত দাবি মানা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করে আসছে। এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললে নেমে আসছে ডিসিপ্লিনারি কমিটির শোকজ। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানাই।
এ সময় তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় অভিন্ন টিউশন ফি নীতিমালা প্রণয়ন ও করোনাকালীন সেমিস্টার ফি মওকুফ ও দুই শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক প্রিতম ফকির, ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল ইসলাম শিশির, সহ-সভাপতি কেএম মুত্তাকী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি শাওন বিশ্বাস প্রমুখ।
গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা’ তথ্য প্রচার করার অভিযোগে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে ইউল্যাব।
তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, করোনাভাইরাস মহামারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ফি ৫০ শতাংশ মওকুফের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।