রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নদী খাল বিল ও ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (খনন যন্ত্র) দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
দৌলতদিয়া ১নং ওয়ার্ডের সাত্তার মেম্বার পাড়া ও চর কর্ণেশনা এলাকার নদী তীরবর্তী এলাকায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ওসমান কাজী এবং সাবেক ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব আলী খাঁনের নেতৃত্বে প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ এই কাজে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, মাটি উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় নদী তীরবর্তীদের ফসলি জমি ও বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সাত্তার মেম্বারের পাড়া ও চর কর্ণেশনা এলাকার মানুষের মাঝে চাপা আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা একাধিক বার বাধা দিয়েও মাটি খেকোদের রোধ করতে পারেনি। উপরন্তু শুনতে হয়েছে নানা হুমকি-ধামকি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এই মাটিখেকো চক্রটি অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (খনন যন্ত্র) দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে যাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে এ সব অপকর্ম বন্ধ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না । বরং মাটি খেকোরা প্রকাশ্যেই এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন।
দৌলতদিয়া সাত্তার মেম্বার পাড়ার অনেকেই জানান, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে কয়েক ভাঙা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে এখানে এসে ঘর তুলে বসবাস করছি। পাশাপাশি এখানে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম কিন্তু ফসলি জমিতে অবৈধভাবে এক্সকাভেটর (খনন যন্ত্র) দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করায় যেমন ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি তেমনি বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এভাবে অবৈধ এক্সকাভেটর (খনন যন্ত্র) দিয়ে মাটি কাটতে থাকলে বর্ষা মৌসুমে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
চর কর্ণেশনা এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকাবাসীর নিষেধ সত্ত্বেও মাটি খেকো ইউপি সদস্য মো. ওসমান কাজী ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব আলী খাঁন স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে দিনের পর দিন মাটি ও বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মাঝে মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন মাটি কাটা বন্ধ করলেও মাটি খেকোরা কয়েক দিন বন্ধ রেখে পুনরায় মাটি কাটা শুরু করে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মাটি খনন বন্ধের আকুতি জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বরং ওসমান কাজী গংদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে নানা হুমকি-ধমকি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দৌলতদিয়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) ওসমান কাজী বলেন, ‘বাহিরচর গ্রামে নদীর পাড়ে আমার নানার নিজস্ব এক হাজার তিনশ ছাব্বিশ শতাংশ জমি রয়েছে। সেখান থেকে আমি মাটি কেটে বিক্রি করছি।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ মাটিকাটা ও বালু উত্তোলন করে বিক্রির কাজে ইউপি সদস্যের যুক্ত থাকা খুব দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’