চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম। স্থানীয় পর্যায়ের ছোটখাটো বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে মানুষ এখন থানা-পুলিশে না গিয়ে গ্রাম আদালতেই বিচার পাচ্ছেন।
বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত এ আদালতে ফৌজদারি, দেওয়ানি ও যেসব মামলার মূল্যমান ৭৫ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে নয় এমন মামলা এখানে নিষ্পত্তি করা হয়। সাধারণত সপ্তাহের প্রতি শনি, সোম ও বৃহস্পতিবার এখানে গ্রাম আদালত বসে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে এ আদালত; যা উপজেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
২০১৩ সাল থেকে বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের প্রধান। এছাড়া বাদী-বিবাদীদের একজন করে মনোনীত দুজন, একজন ইউপি সদস্য ও একজন গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ পাঁচজনকে নিয়ে শুরু হয় এ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। গ্রাম আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৫ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ইউনিয়ন ফোরাম এই ইউনিয়ন পরিষদকে পুরস্কৃত করে।
ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তার মেয়ের বিয়ে বিচ্ছেদের একটা অভিযোগ ছিল, এই আদালতের মাধ্যমে এক দিনেই তার সমাধান পেয়েছেন।
বড়উঠান গ্রামের শহীদ ও তাজুল নামে দুই ভাই জানান, এই আদালতের মাধ্যমে ১৮ বছর পর পিতৃপরিচয় পেয়েছেন তারা। সম্পত্তির লোভে যেখানে আপন মামারাও তাদের অস্বীকার করেছিলেন। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিচক্ষণতায় তারা পিতার স্বীকৃতি পেয়েছেন গ্রাম আদালতে।
গ্রাম আদালতে আসা কয়েকজন বিচারপ্রার্থী বলেন, অভিযোগ করার কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন তারা। এতে করে তাদের আর থানা-পুলিশে যেতে হচ্ছে না। বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১৪৭টি অভিযোগের মধ্যে ১১৮টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় অভিযোগকারীদের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া আদালত থেকে পাঠানো অর্ধশতাধিক মামলা দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল আলম জানান, গ্রামের মানুষ দিন দিন গ্রাম আদালতের ওপর আস্থা রাখতে শুরু করেছেন। ছোটখাটো বিরোধ নিয়ে আর মামলা-মোকদ্দমায় যাচ্ছেন না তার ইউনিয়নের বাসিন্দারা। পারিবারিক কলহ, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, পিতা-মাতার ভরণপোষণসহ ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা সুলতানা বলেন, গ্রাম আদালত চালু হওয়ার পর মানুষ ছোট ছোট বিরোধ নিষ্পত্তি করতে এই আদালতের দিকে ঝুঁকছেন।