সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের পোরজনা গুচ্ছগ্রামের এক স্কুলছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন- একই গ্রামের আলহাজ আলীর ছেলে ভ্যান চালক ইউসুফ আলী (১৮), মিন্টু প্রামাণিকের ছেলে জীবন (১৭) ও মানিক হোসেনের ছেলে ফয়সাল (১৭)। এর মধ্যে ইউসুফ আলী (১৮)কে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন পলাতক রয়েছে।
এ ছাড়া এ দিন দুপুরে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্যাতিতার পরিবার জানায়, গত ১ মাস আগে স্কুলে যাওয়ার সময় ইউসুফ, জীবন ও ফয়সাল মেয়েটিকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ফয়সালের বাড়ির একটি ঘরে ধর্ষণ করে। এ সময় ইউসুফের মোবাইল ফোনে ফয়সাল এ ধর্ষণের চিত্র ভিডিও ধারণ করে। এরপর ওই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ জন ১ মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে মেয়েটিকে তারা আবারও ধর্ষণের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ইউসুফকে হাতেনাতে আটক করে। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে ফয়সাল ও জীবন দৌড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে। আটক ইউসুফকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসী ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবারও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।