মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে

           যেকোনো ধরনের পছন্দের বই পাঠকের মানসিক উদ্দীপনা জোগায়। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন, আলজেইমার’স ও ডিমেনশিয়া নামের রোগের রোগীকে বই পড়ার অভ্যাস মানসিকভাবে উন্নত করে ও তাকে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলে।

          যেকোনো মানুষ বই পড়ে, সিনেমা দেখে নিজের মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও প্রিয় কাজে নিযুক্ত রাখেন। ফলে মস্তিষ্কটি শক্তি হারানো থেকে বাঁচে।  

          দেহের যেকোনো অঙ্গের মতো মস্তিষ্ক শক্তিশালী এবং স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রয়োজন আছে। ‘মস্তিষ্ককে ব্যবহার করুন, নচেৎ হারিয়ে ফেলুন’যে ইংরেজি প্রবাদটি আছে, সেটি মনের মধ্যে গেঁথে নিয়ে কাজ করলে কার্যকর, স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী মস্তিষ্ক যেকোনো মানুষের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব হয়।

          বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকরা মস্তিষ্ককে শক্তিশালী, ভালো ও উদ্দীপ্ত রাখতে ধাঁধা সমাধান ও দাবা খেলার পরামর্শ দেন সবাইকে।   

          মানুষের শরীর যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনটি ঘটে জীবন্ত মস্তিষ্কের ক্ষেত্রে। কর্মক্ষেত্র ও অন্য কাজে, ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যান্য অসংখ্যভাবে, প্রতিদিন বা হঠাৎ কোনো ঘটনাতে যে পরিমাণ চাপ মস্তিষ্ককে নিতে হয়, তার ফলে সে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে সুস্থ না থাকলে বা সেই প্রক্রিয়াতে না গেলে। এজন্য পরিমিত কাজ, উন্নত জীবনযাপন ও জীবনবোধ চর্চা করতে হয়।

          চেষ্টা করতে হবে কখনো যেন নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ না হারান। উত্তেজনাব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত পরিহার করতে হবে। খারাপ অভ্যাসগুলো, খারাপ সঙ্গ ও খারাপ কাজ বাদ দিতে হবে; দূরে থাকতে হবে সেসব থেকে।

          বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলাফল বলছে, একটি ভালো মানের উপন্যাস কী কবিতা অথবা সিনেমা বা বেড়ানো অথবা পছন্দের কোনো কাজ নিজের মতো করে করতে পারলে যেকোনো বয়সের, যেকোনো অবস্থার মানুষ সে অবস্থায় ভালো থাকতে পারেন। রোগী বা অসুস্থদের ক্ষেত্রেও তাই। তিনিও আগের চেয়ে আরও ভালো বোধ করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। পরেও এই মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি তাকে শক্তি জোগাবে। প্রশান্তিময় করে তুলবে।

ওমর শাহেদ