মঙ্গলবার দেশ জুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন ভারতের কৃষকরা

ভারতের নয়া কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী কৃষকরা মঙ্গলবার দেশ জুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছেন। এর আগে, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন (বিকেইউ-লাখোওয়াল) দেশ জুড়ে এই বন্‌ধের ঘোষণা দেয়। বন্‌ধ চলাকালীন সমস্ত জাতীয় সড়ক এবং টোলপ্লাজাগুলি অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছে কিষান ইউনিয়ন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হরিন্দর সিংহ লাখোয়াল সংবাদমাধ্যমে বলেন, কৃষি আইন সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করতে হবে বলে গতকালই কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। ৫ ডিসেম্বর দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করব আমরা। ৮ ডিসেম্বর ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছি। আরও অনেক মানুষ আমাদের এই আন্দোলনে যোগ দেবেন।

অল ইন্ডিয়া কিষান সভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লার কথায়, এই আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের। সরকারকে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতেই হবে।

গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা। সপ্তাহখানেক আগে তারা দেশটির রাজধানী ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলনের ডাক দেন। উত্তর প্রদেশ, উত্তরখণ্ড-সহ অন্যান্য রাজ্যের কৃষকরাও তাতে যোগ দেন। দিল্লি পুলিশ সীমানা আটকে দেওয়ায় এই মুহূর্তে দিল্লি-পাঞ্জাব এবং দিল্লি-হরিয়ানা সীমানায় হাজার হাজার কৃষক অবস্থান নিয়েছেন।

এ দিকে শনিবার মোদীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচির সময়ই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পঞ্চম দফায় বৈঠকে বসবেন কৃষক নেতারা।

সেখানে সমঝোতায় আসা সম্ভব হতে পারে বলে আশাবাদী বিকেইউ-এর নেতা রাকেশ টিকায়েত। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কোনও সমাধান বেরিয়ে আসেনি। যে তিনটি আইন ঘিরে বিতর্ক তা সংশোধনে মত রয়েছে কেন্দ্রের। কিন্তু আমরা চাই ওই তিনটি আইন সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করা হোক। সরকার আমাদের দাবি না মানলে আন্দোলন চলবে। শনিবারের বৈঠকে কী হয় এখন তা-ই দেখার।

সূত্র: আনন্দবাজার।