মুক্তিযুদ্ধে জেলায় প্রথম শহীদ হয়েও মেলেনি স্বীকৃতি

আর কিছুদিন পরই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে জাতি। কিন্তু মাগুরায় হানাদার বাহিনীর গুলিতে প্রথম শহীদ লালন মোল্যা ওরফে লালু পাগলার পরিবার আজও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো স্বীকৃতি পায়নি বলে জানা গেছে। মাগুরায় প্রতি বছর সরকারিভাবে বিভিন্ন দিবস পালন করা হলেও বরাবরই উপেক্ষিত হয়ে আসছে প্রথম শহীদ লালন মোল্যার পরিবার।

শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন পরিবারটির সদস্যরা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনী প্রায় প্রতিরোধ ছাড়াই মাগুরায় প্রবেশ করে। এদিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর প্রথম হত্যাযজ্ঞের শিকার হন সদর উপজেলার বাগবাড়িয়া গ্রামের মুনছুর মোল্যার ছেলে লালন মোল্যা। দিনটি ছিল শুক্রবার। মাগুরা শহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের ৩ নম্বর কছুন্দি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় তারা। ওই সময় ‘জয় বাংলা’ সেøাগান দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর কনভয়ের সামনে এগিয়ে আসা মাত্রই লালুকে গুলি করে হত্যা করে হানাদাররা।

পরবর্তী সময়ে মাগুরার মুক্তিকামী বিপ্লবী জনতা আকবর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে গঠিত শ্রীপুর বাহিনী, গোলাম ইয়াকুবের (বীর প্রতীক) নেতৃত্বে ইয়াকুব বাহিনী, খোন্দকার আবদুল মাজেদের নেতৃত্বে মাজেদ বাহিনী, আবু নাসির বাবলুর নেতৃত্বে বিএলএফ (মুজিব বাহিনী), তৎকালীন ক্যাপ্টেন ওহাবের (বর্তমানে মেজর জেনারেল হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত, সাবেক সাংসদ) নেতৃত্বে ঈগল বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে জড়িয়ে ৭ ডিসেম্বর মাগুরাকে হানাদারমুক্ত করে।

শহীদ লালু মোল্যার ভাতিজা আবু তালহা জানান, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে তার চাচার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সম্প্রতি নিজ উদ্যোগে বাগবাড়িয়া কবরস্থানে শহীদ লালুর কবরটি পাকাকরণ করা হয়েছে।

লালু মোল্যার ছোট ভাই আবু বক্কার মোল্যা জানান, প্রতি বছর বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধা-শহীদদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা হলেও স্বাধীনতার ৪৯ বছরে তারা এর থেকে বঞ্চিত। তবে স্থানীয়ভাবে ২০০৮ সালে বগিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবদুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন কেন তার নাম শহীদের তালিকায় ওঠেনি তিনি বিষয়টি জানেন না। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ তাদের কাছে আবেদন করেনি বলে তিনি জানান।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে যাচাই-বাছাই শুরু হবে। ভুক্তভোগী পরিবারটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।