কোচ ছাঁটাইয়েও চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল!

করোনাভাইরাসের প্রকোপে বেকারত্ব বেড়েছে ব্রাজিলে। দেশটিতে ফুটবলের ওপর নির্ভর করে অনেকের জীবিকা। কিন্তু এক গবেষণায় দেখা গেছে ভালো নেই ব্রাজিলের কোচেরা। পাঁচবারের ফুটবল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল হয়ে উঠেছে কোচ ছাঁটাইয়েরও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

এই মৌসুমে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়নশিপের ২৩ রাউন্ড খেলা হয়েছে। এরই মধ্যে ছাঁটাই হয়েছেন অন্তত ২২ জন কোচ। ২০ সিরি আ (ব্রাজিলের প্রথম বিভাগ লিগ) ক্লাবের মধ্যে ১৫টি ক্লাব তাদের কোচ বদলেছে মৌসুমে। শুধু টেবিলের তলানির দলগুলো যে কোচ ছাঁটাই করেছে ঘটনা তেমনটি নয়। রীতিমতো কোচ ছাঁটাইয়ের মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা চলছে দেশটিতে। তিন সপ্তাহ আগে বর্তমান ব্রাজিল লিগ চ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন ফ্ল্যামেঙ্গো তাদের স্প্্যানিশ কোচ দোমেন্স তোরেন্তকে ছাঁটাই করেছে। সে সময় ফ্ল্যামেঙ্গো লিগে ছিল তৃতীয় স্থানে, শীর্ষ দলের চেয়ে এক পয়েন্ট পিছিয়ে।

কোলনে জার্মান স্পোর্ট ইউনিভার্সিটির এক জরিপে দেখা গেছে, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ব্রাজিলে সবচেয়ে বেশি কোচ ছাঁটাই হয়েছে। এ সময় গড়ে ৩৭.১ জন কোচ ছাঁটাই হয়েছেন প্রতি মৌসুমে। আর্জেন্টিনায় এই সংখ্যাটা ২১, ইংল্যান্ডে ১০ এবং ফ্রান্সে ৪.৯। জরিপটিতে বলা হয়েছে, টানা চার ম্যাচের ফলাফল খারাপ হলেই ব্রাজিলে কোচ বদলের প্রবণতা দেখা গেছে। আর কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে বাদ পড়ায় কোচের বদলের হারটা ৫৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। কোচ ছাঁটাইয়ে ব্রাজিলের বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে এগিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গো। তাদের গড় ১.৯, সাও পাওলো ও পালমেইরাসের ১.৬ (মৌসুম প্রতি)।

ব্রাজিলের স্পোর্ট টিভির ধারাভাষ্যকার পাওলো ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমাদের এই সংস্কৃতির (কোচ ছাঁটাই) পরিবর্তন করতে হবে। ক্লাব প্রেসিডেন্টকে বুঝতে হবে কেন তারা কোচদের নেবেন কিংবা ছাঁটাই করবেন।’ তবে ক্লাবে যেখানে কোচদের চাকরি ঠেকানো দায়, জাতীয় দল হাঁটছে উল্টো স্রোতে। ২০১৬ সাল থেকে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আছেন তিতে। ২০২২ পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি আছে ব্রাজিলের। অথচ ২০১৮ সালে কোয়ার্টার থেকে বাদ পড়েছিল ব্রাজিল। তবে ১৯৭৮ সালের পর তিতেই প্রথম কোচ যিনি একটি বিশ্বকাপ শেষ করার পরও দলটির কোচ হিসেবে আছেন।