বিএসএমএমইউয়ে রোগীর মৃত্যু

মামলা নিতে ২ বছর, কারণ খুঁজছে মানবাধিকার কমিশন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) এক রোগীর কিডনি অপসারণ ও মৃত্যুর ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

গতকাল রবিবার সকালে কমিশন গঠিত তদন্ত দলের প্রধান এবং অভিযোগ ও তদন্ত বিভাগের পরিচালক আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর শাহবাগ থানায় গিয়ে এ বিষয়ে ওসিসহ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলা নিতে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য আমরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করব।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মামুন অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাদীর অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগকেও তাগাদা দিয়েছি। এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটির কাছে আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা, তখন আমি এখানে ছিলাম না। ফলে আগে মামলা না নেওয়ার দায়ভার আমার ওপর বর্তায় না।’

২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রওশন আরা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর দুই বছর পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ায় গত ২৭ নভেম্বর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন ওই নারীর ছেলে চলচ্চিত্র পরিচালক মো. রফিক শিকদার। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অল অরগান ড্যামেজ হওয়ায় রওশন আরার মৃত্যু এবং তার দুটি কিডনি সার্জিক্যালি অপসারণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চার চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করে আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল (৫৫), সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন (৪৮), চিকিৎসক মো. মোস্তফা কামাল (৪৬) ও চিকিৎসক আল মামুন (৩৩)।

শাহবাগ থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, উচ্চ আদালত থেকে আসামিরা গত বুধবার জামিন নিয়েছেন মর্মে তার কাছে কাগজপত্র এসেছে। এ জন্য তাদের গ্রেপ্তার কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নি¤œ আদালতে জামিন বাতিল হলে গ্রেপ্তারে আইনি কোনো বাধা থাকবে না বলে জানান তিনি।