করোনায় মারা গেলেন মুক্তিযোদ্ধা পাইলট আকরাম আহমেদ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন মুক্তিযোদ্ধা পাইলট বীর উত্তম আকরাম আহমেদ (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সূচিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং তাদের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের আন্দোলনের সূচনাকাল থেকে ক্যাপ্টেন (অব.) আকরাম আহমেদ বীর উত্তম যুক্ত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তার আকস্মিক মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের এক মহান যোদ্ধাকে, আমরা হারিয়েছি আমাদের অভিভাবকতূল্য অকুতোভয় সহযোদ্ধাকে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নাগরিক আন্দোলনে আমাদের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ বীরউত্তমের অকাল মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হবে না।

মঙ্গলবার জোহরের নামাজ শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান জানানোর পর তার লাশ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

আকরাম আহমেদের পৈতৃক বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলার গাছঘাট গ্রামে। তার বাবার নাম মেজবাউদ্দীন আহমেদ এবং মায়ের নাম মাফিয়া খাতুন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই কন্যার বাবা।

১৯৭১ সালে আকরাম আহমেদ পূর্ব পাকিস্তান উদ্ভিদ রক্ষা (প্ল্যান্ট প্রটেকশন) বিভাগে কাজ করতেন। সেই সময়ে আকাশ থেকে বনে ওষুধ ছিটিয়ে পোকা দমনের জন্য উদ্ভিদ রক্ষা বিভাগের নিজস্ব বিমান (ক্রপ ডাস্টার) ছিল।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মে মাসে ঢাকা থেকে পালিয়ে ভারতে যান আকরাম আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং গঠন করা হলে আকরাম আহমেদ তাতে অংশ নেন।

আকরাম আহমদ চট্টগ্রাম ও সিলেটের নানা স্থানে ১২টির মতো আক্রমণে অংশ নেন। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে চট্টগ্রামের তেলের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়েছিল আকরাম আহমেদ।

মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্বের জন্য আকরাম আহমেদকে বীর উত্তম খেতাব দেয় সরকার। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমানে চাকরি করেন।