কিছুদিন আগে এক ঘোষণায় হলিউড দর্শকদের চমকে দেয় ওয়ার্নার ব্রস। তখন জানা যায়, সংস্থাটির অতি প্রতীক্ষিত ‘ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪’ উত্তর আমেরিকায় প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে একইদিন মুক্তি পাবে এইচবিও ম্যাক্সে।
এ সিদ্ধান্ত থেকে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে এসেছে ওয়ার্নার ব্রস। আগামী বছরের বাকি ছবি নিয়েও নাকি একই পরিকল্পনা। বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছেন পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান।
কেনই বা বলবেন না। তিনিই একমাত্র পরিচালক, যিনি করোনার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে বড় বাজেটের ছবি ‘টেনেট’ প্রেক্ষাগৃহে রিলিজ করেছেন।
‘টেনেট’ও ওয়ার্নার ব্রসের প্রোডাকশন, যারা কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছে ২০২১ সালে তাদের সব ছবি সিনেমা হলের পাশাপাশি একই দিনে এইচবিও ম্যাক্সে দেখা যাবে।
প্রযোজনা সংস্থার এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে নোলান বলেছেন, ‘‘এটা অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা, যা কাউকে না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে। এই স্টুডিও-য় ভালো পরিচালক, তারকা কাজ করেন। তারা আশা করেন, তাদের কাজ বড় পর্দায় দর্শক দেখতে পারবেন। আলোচনা না করেই ওটিটিতে ছবি দেওয়া মূর্খের কাজ।’’
যেহেতু দর্শক সিনেমা হলে আসছেন না, তাই প্রোডাকশন হাউসগুলো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেরই মুখাপেক্ষী হচ্ছে। তবে বক্স অফিসের সমান টাকা রোজগার ওটিটি থেকে হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ছবি ফেলে রাখার বদলে কিছু টাকা ঘরে তোলাও জরুরি নির্মাতাদের কাছে।
প্রযোজকদের এই ধারণা সম্পর্কে নোলান বলেছেন, ‘‘ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে আনকোরা ব্যবসায়ীও এর চেয়ে ভালো অর্থনীতি জানে।’’
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে ‘ইনসেপশন’-এর সময় থেকে কাজ করছেন পরিচালক। এই মন্তব্য সেই সম্পর্কে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার।
করোনার বাজারে সিনেমা হল বন্ধ থাকলেও ফুলেফেঁপে উঠেছে নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইমের মতো ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো। একের পর এক বড় বাজেটের ছবি মুক্তি দিয়ে দর্শকদের টেনেছে নিজেদের কাছে। সেখানে আধিপত্য লাভের আশায় অপেক্ষাকৃত নবীন এইচবিও ম্যাক্সের জন্য বড়সড় ঝুঁকি নিল ওয়ার্নার ব্রস।