ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে স্থবির সিরাজগঞ্জের জনজীবন

ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলার অধিকাংশ স্থানে গত দুই দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে শহর ও গ্রাম-গঞ্জের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

তীব্র শীতে ও ঘন কুয়াশায়  রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষ চলাচল কমে গেছে। হাতে কাজ না থাকায় অভাবী মানুষের ঘরে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র চরম কষ্টে আছে।

এ উপজেলা গুলি হল, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালি, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর।

মঙ্গলবার দিনভর মৃদু কুয়াশা ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে এর ঘনত্ব বাড়ে। রাত ১০টার পর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো এলাকা। ফলে সিরাজগঞ্জ শহরের বিপণি-বিতান, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্টেশন, অটোরিকশা স্ট্যান্ডসহ কোলাহলপূর্ণ স্থানগুলো মুহূর্তই জনশূন্য হয়ে পড়ে।

বুধবার ভোরেই এলাকায় ঘন কুয়াশা ও শীত আরও তীব্র হয়। ফলে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায় শহর ও গ্রাম। ফুটপাতের সবজি, মাছ, ফলম‚ল ও শীতের কাপড় ব্যবসায়ীরা বেচা-কেনা না থাকায় তারা দোকান গুছিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। রিকশাচালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরাও ভাড়ার আশায় আর বসে থাকছেন না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশনের রিকশাচালক হাবিব বুধবার দুপুরে বলেন, গত রাতেও রিকশা চালানো গেছে। ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত রিকশা চালানো সম্ভব হয়নি। বেলা ১২টার দিকে মাত্র একজন যাত্রী পরিবহন করেছি।

সবজি বিক্রেতা আব্দুল লতিফ ও মালেক বলেন, কুয়াশার কারণে মানুষজন বের হচ্ছে না। এ কারণে অর্ধেক সবজিও বেচা হয়নি। 

এ বিষয়ে তাড়াশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাতাসের আদ্রতা প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ হওয়ায় কুয়াশার এত ঘনত্ব বেড়েছে। আবহাওয়ায় উচ্চ বলয় চাপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাপমাত্র সর্বনিম্ন ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রয়েছে। কুয়াশা আরও দু-একদিন থাকতে পারে।