রাজধানী ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণকাজ চলাকালে উদ্ধার হওয়া বোমাটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে ফেলা হয় বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলাকালে বুধবার মাটি খুঁড়ে বোমাটির সন্ধান পায় নির্মাণ শ্রমিকেরা। পরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সেটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএসপিআর জানায়, ২৫০ কেজি ওজনের বোমাটি একটি জেনারেল পারপাস (জিপি) বোমার মতো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
বীর উত্তম খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ৩ ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো শত্রুপক্ষ পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তখনকার ওই হামলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
ক্যাপ্টেন আহমেদ বলেন, যুদ্ধের সময় মূল বিমানবন্দরগুলোতে হামলা চালানোর কাজটি করেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী, কারণ বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর তখনো ওই হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা ছিল না।
তিনি জানান, মূল বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষিত ঘাঁটিগুলোতে হামলা করত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জে শত্রুদের জ্বালানি সরবরাহের যে ডিপোগুলো ছিল সেখানে হামলা চালিয়েছিল বাংলাদেশের বাহিনী। চট্টগ্রামে বিমানবন্দরের কাছেও একটি ডিপো ছিল সেটিও উড়িয়ে দেয়।
এই হামলা চালানোর পরের দিন ভোরে ভারতীয় বিমানবাহিনী বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান তিনটি বিমানবন্দর ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোরে বিমান হামলা চালায়। আর এ কারণেই ঢাকার বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া বোমাটি ভারতীয় বিমানবাহিনী থেকে ফেলা হয় বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ওই হামলা চালানোর সময় এর কোন একটিতে হয়তো উদ্ধার হওয়া বোমাটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে একজন মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশও নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, যে কোন যুদ্ধের কৌশল হচ্ছে পদাতিক বাহিনী যেন এগিয়ে যেতে পারে, সে জন্য প্রথমেই টার্গেট করে শত্রুপক্ষের বিমানবাহিনী ও বাহিনীর ঘাঁটি ধ্বংস করা। আর মুক্তিযুদ্ধের সময়ও ঠিক এটাই করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাছাই করা যেসব হামলা চালানো হয়েছিল, তার মধ্যে তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে হামলা ছিল উল্লেখযোগ্য। আর যে বোমাটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি ওই হামলা থেকেই এসে থাকবে বলে মনে করেন জেনারেল রায় চৌধুরী।
জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বাহিনী মূলত মিগ-২১ এবং ক্যানবেরা বিমান ব্যবহার করেছিল। যে বোমাটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি সম্ভবত ক্যানবেরা বিমান থেকে ফেলা হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।