একই গ্রুপে আবাহনী-মোহামেডান

ফেডারেশন কাপের রোল অব অনারে চোখ রাখলেই দেখা যাবে আবাহনী-মোহামেডানের আধিপত্য। আগের ৩১ আসরে ২১ বারই শিরোপা দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দু’দলের। আবাহনী জিতেছে সর্বোচ্চ ১১ বার, মোহামেডান ১০ বার। গত শতাব্দীর আশি-নব্বইয়ের দশকের মতো এই লড়াই এখন সেভাবে রোমাঞ্চ না ছড়ালেও, আলোচনায় ঠিকই থাকে ফুটবল পাড়ায়। তো, ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ফেডারেশন কাপের গ্রুপপর্বেই ফুটবল সমর্থকরা পেতে যাচ্ছে আরেকটি আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ উপভোগের সুযোগ। গতকাল ১৩ দলের ফেডারেশন কাপের ড্র অনুষ্ঠানে দু’টি দল পড়েছে ‘ডি’ গ্রুপে। অপর দলটি তিনবারের ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র।

ফেডারেশন কাপের গ্রুপপর্বের আকর্ষণ মূলত এটাই। এছাড়া গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং রানার্সআপ রহমতগঞ্জ খেলছে ‘সি’ গ্রুপে। তবে তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জানাতে এই গ্রুপে আছে চট্টগ্রাম আবাহনী। ‘এ’ গ্রুপে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র এবং শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের সঙ্গে আছে পুলিশ এফসি। আর চারদলের ‘বি’ গ্রুপটি হয়েছে সাইফ স্পোর্টিং, আরামবাগ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবং উত্তর বারিধারাকে নিয়ে।

ফেডারেশন কাপে একটা সময় একচেটিয়া আধিপত্য ছিল মোহামেডানের। চিরশত্রু আবাহনীকে ছাপিয়ে তারা মর্যাদার এই ট্রফিটাকে বলতে গেলে নিজের করে নিয়েছিল শুরুর দিকে। কিন্তু ২০০৯ সাল সর্বশেষ ফেডারেশন কাপ জেতার পর থেকেই মোহামেডান চড়ে বসে উল্টোরথে। গত মৌসুমে সেমিফাইনাল পর্যন্ত গেলেও রহমতগঞ্জের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। মোহামেডানের পিছু হটার সুযোগটা দারুণভাবে নিয়ে ফেডারেশন কাপের সবচেয়ে সফল দলে পরিণত হয় আবাহনী। গতবারের আগ পর্যন্ত ছয়বারের লিগ শিরোপাজয়ীরা টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ছাড়িয়ে যায় মোহামেডানকে। 

আবাহনী-মোহামেডানের একই গ্রুপে নাম ওঠার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩-১৪ মৌসুমে। সেবার দু’দলই পেরিয়েছিল গ্রুপের বাধা। এবারও আপাতদৃষ্টে কোয়ার্টার ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে তারা। সেটা মুক্তিযোদ্ধার থাকা-না থাকার দোলাচলের কারণেই। আর্থিক সংকটে এখনো মুক্তিযোদ্ধার ফেডারেশন কাপে খেলা নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত যদি মুক্তিযোদ্ধা খেলতে না পারে তবে ‘বি’ গ্রুপের চতুর্থ দল বারিধারা চলে আসবে আবাহনী-মোহামেডানের গ্রুপে। ড্র অনুষ্ঠানে ‘ডি’ গ্রুপের টপ সিড হিসেবে আবাহনীর নামটি তুলেছিলেন মোহামেডানের ইংলিশ কোচ শন লিন। পরে দেখা যায় তার দলেরও জায়গা হয়েছে এই গ্রুপে। চির প্রতিদ্বন্দ্বীকে একই গ্রুপে পেয়ে কিছুটা রোমাঞ্চিতই মনে হলো শন লিনকে, ‘আমি দু’টি কারণে গ্রুপ প্রতিপক্ষ হিসেবে আবাহনীকে চেয়েছিলাম। প্রথমত তারা অনেক শক্তিশালী দল। তাদের মোকাবিলার মধ্য দিয়ে আমি আমার দলের সামর্থ্যটাও জানতে পারব। আর দ্বিতীয়ত এই ম্যাচ যেমন আসরের জৌলুশ বাড়াবে, তেমনই দু’দলের সমর্থকদের জন্য এটা হবে বাড়তি পাওয়া।’ আবাহনীর দীর্ঘদিনের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুও খুশি মোহামেডানকে গ্রুপ প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে, ‘এটা বরাবরই রোমাঞ্চকর একটা লড়াই। যা ঢাকা ডার্বি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ভক্তদের কাছে। আমাদের লক্ষ্য শিরোপা হলেও আমরা ধাপে ধাপে এগুতে চাই। প্রথম লক্ষ্য গ্রুপসেরা হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া। এরপর ম্যাচ বাই ম্যাচ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। কারণ শুরু থেকেই খেলোয়াড়দের চাপে ফেলার সুযোগ নেই। কারণ তারা দীর্ঘদিন খেলার বাইরে ছিল।’