দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারে সরকারের সুপারিশ ও হস্তক্ষেপ নয়

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি স্বাধীন সংস্থা। তাই এর অধীনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ বা সুপারিশ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত।

এ সংক্রান্ত রুলের ওপর চ‚ড়ান্ত শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

গত ১০ ডিসেম্বর এ রায় হলেও রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান ও এ কে এম ফজলুল হক। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।

রায়ে বলা হয়, সংশোধিত আইন অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংস্থা। এর ফলে দুদকের অনুমোদিত কোনো মামলা প্রত্যাহারে কেউ কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না এবং এ বিষয়ে কারও এখতিয়ার নেই।

অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুদকের একটি মামলা সরকারের আবেদনে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। আদালত বলেছেন, এখানে সরকারের প্রত্যাহারের আবেদনের কোনো এখতিয়ার নেই। দুদক একটি স্বাধীন সংস্থা। সরকার এখানে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। দুদক আইনেও সরকারকে এ ধরনের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এটি আদালতের পর্যবেক্ষণ নয় নির্দেশ। আর এ নির্দেশনা পালন করতে সবাই বাধ্য।

তিনি আরও বলেন, দুদকের কোনো মামলায় হস্তক্ষেপ করবে না- এটি আইনে আগেই ছিল। আমাদের জানামতে এই মামলা ছাড়া দুদকের আর কোনো মামলা প্রত্যাহার হয়নি। অগোচরে গোপনে কাউকে দিয়ে তদবির করে এই কাজটা হয়েছে। আমাদের যে পিপি তিনিও হয়তো ভুল করেছেন। যে আদেশটি হয়েছিল সেটি বাতিল হয়ে গেল।

দুদকের কৌঁসুলি ফজলুল হক জানান, ২০০৭ সালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে টিন আত্মসাতের অভিযোগে ওই বছরের ৫ এপ্রিল মামলা করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। এক পর্যায়ে এই মামলা প্রত্যাহারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুপারিশ করলে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি সিলেটের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেয়।

এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ২০১৬ সালে রিভিশন আবেদন করে দুদক। ওই বছরের ২৭ মার্চ রুল জারি করে হাইকোর্ট। রুলে কেন এই প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার এ রায় হলো।

অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে এই মামলাটি চলতে কোনো বাধা নেই।