একাত্তরের গল্পে ‘রায়ট লতা’

চন্ডিপুর গ্রাম। হিন্দু মুসলমানের সহাবস্থান গ্রামটিতে। উলুধ্বনি আর আজানের শব্দে সন্ধ্যাবাতি জ্বলে সবার ঘরে। ১৯৭১ সাল। গ্রামটিতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণ হতে পারে যে কোন দিন। খবর পেয়ে সবাই গ্রাম ছাড়ছে।

এ প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে বিজয় দিবসের নাটক ‘রায়ট লতা’। রচনা ও পরিচালনায় আছেন সাইফুল জাহিদ।

নাটকের গল্পে দেখা যায়, বাবা নেই দোলনের। মামা এসেছে তাদের নিয়ে যেতে। কিন্তু দোলনের দাদি বার্ধক্যজনিত কারণে বিছানায় পড়ে আছে। রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছাড়ছে দোলনের মা। দু-এক দিন পর যদি সুযোগ হয় তবে মামা নৌকায় করে দাদিসহ দোলনকে নিয়ে যাবে। মা সংসারের সব বুঝিয়ে দেন মেয়েকে।

এরপর দেখা যায়, সকাল। সুনসান নীরবতা। পানি আনার জন্য ভয়ে ভয়ে বাহির হয় দোলন। হঠাৎ লক্ষ্য করে একটি ভাসমান ডিঙি নৌকা। কাছে যেতেই দেখতে পায় একজন আহত মুক্তিযোদ্ধা শুয়ে আছে। লোকটি এখনো জীবিত আছে। পা থেকে রক্ত ঝরছে। দোলন তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। তাকে সেবা দিয়ে ভালো করে তোলার চেষ্টা করে।

রায়ট লতা বেঁটে ক্ষতস্থানে দেয়। এদিকে মামা আসে দোলন ও তার দাদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। নৌকায় করে যাবে। কিন্তু দোলন তো যেতে পারবে না। মুক্তিযোদ্ধা স্বপন একা। মারাত্মক আহত হয়েছে, রক্ত ঝরা কোনোভাবেই থামছে না। আর যদি নৌকায় করে স্বপনকে নিয়ে যায় জলিল মাতব্বর ও তার লোকজনের চোখ এড়াতে পারবে না। তবে উপায়?

‘রায়ট লতা’য় অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম, ইন্তেখাব দিনার, শিল্পী সরকার অপু ও সোহেল খানসহ অনেকে।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় এনটিভিতে প্রচার হবে ‘রায়ট লতা’।