চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ কোটি ১৪ লাখ ২২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার ও তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে হাইকোর্টে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
একই সঙ্গে জানুয়ারি থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল, অনিবন্ধিত ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাত কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ২০৩ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১ হাজার ৪৩৭টি মামলা ও ৫৭ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধবিরোধী অভিযানের সর্বশেষ প্রতিবেদন আগামী তিন মাসের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার আরও বলেন, শুধু ফার্মেসি নয়, যদি সম্ভব ও প্রয়োজন হয় তাহলে যেখানে ওষুধ উৎপাদন, লেবেলিং ও প্যাকেজিং হয় সেখানেও যেন অভিযান পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হয় সেটি আদালত বলেছে। অনেক সময় রি-লেবেলিং, রি-প্যাকেজিং করে বাজারে ওষুধ ছাড়া হয়। সেটি যাতে না হয় সেজন্য এ আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
২০১৯ সালের মে মাসে একটি সেমিনারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়। পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে ওই বছরের ২৪ জুন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ২৮ জুন রুলসহ আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
আদেশে সারা দেশে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার, জব্দ ও ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।