একাত্তরে গণহত্যার পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনীসমূহের বিচার দাবি

পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের অবশ্যই বিচার হতে হবে বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, এখনই সময় একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং গণহত্যায় পাকিস্তানি ঘাতক বাহিনীগুলোর বিচার দাবিতে বিশ্ব জনমত গঠন।

সোমবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অনলাইন আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তারা।

নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মুজিব বাহিনীর অন্যতম অধিনায়ক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজসহ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানরা।

শাহরিয়ার কবির বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে সীমিত সম্পদের ভেতর ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে একাত্তরের ঘাতক দালালদের বিচার শুরু করেছেন, যার জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়ক বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়াউর রহমান পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য এই বিচার শুধু বন্ধই করেননি, সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন সব যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে নিয়ে দলও করেছেন। স্বাধীনতার প্রায় ৪০ বছর পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত শীর্ষস্থানীয় অপরাধীদের বিচার হলেও গণহত্যাকারী সংগঠনগুলো এবং গণহত্যার প্রধান হোতা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিচার শুরু হয়নি। এখন সময় এসেছে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল পুনরুজ্জীবিত করে ন্যায়বিচার ও মানবতার স্বার্থে দ্রুত এ বিচার সম্পন্ন করা।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করার জন্য। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জাতি এখন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতার কাঙ্খিত অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ আর্থসামাজিক অগ্রগতির ড়্গেত্রে পাকিস্তানকে অনেক পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের অবশ্যই বিচার হতে হবে।

এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্র এবং দেশ ও বিদেশে ৫০টির অধিক শাখা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।  সকাল ৮টায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং কেন্দ্র ও মহানগর নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রার মাধ্যমে মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক প্রদান ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।