বঙ্গবন্ধুর পলাতক ৪ খুনির মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলে রুল

বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া বীরত্বের খেতাব স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এই আদেশ দেয়।

খেতাব স্থগিত হওয়া পলাতক এই চার খুনি হলো- শরীফুল হক ডালিম, মোসলেম উদ্দিন, রাশেদ চৌধুরী ও এবিএমএইচ নূর চৌধুরী।

রিটকারী আইনজীবী সুবীর নন্দী দাশ দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর চার খুনির খেতাব স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

রুলে এ চারজনের খেতাব বাতিলে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান ও আশরাফুজ্জোহা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘এই চারজনের খেতাব বাতিল চাওয়া হয়েছে, কারণ তারা অপরাধী হিসেবে দণ্ডিত। একজন দণ্ডিত অপরাধীর রাষ্ট্রীয় খেতাব থাকতে পারে না। এটা রাষ্ট্রের সংবিধান, আইনকে কলুষিত করে।’

রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট বঙ্গবন্ধুর পলাতক চার খুনির খেতাব স্থগিত রাখতে বলেছে বলে জানান এই আইনজীবী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই চারজনের খেতাব বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাশ গত ১ ডিসেম্বর এই রিট আবেদন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধুর পলাতক ছয় খুনির অন্যতম নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম, শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৭ জনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম ও ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক খেতাব দেওয়া হয়।