বরগুনার বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হুমায়ুন কবির মল্লিক। তার অভিযোগ, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নিকটাত্মীয়। তিনি তার পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন। তবে পক্ষপাত ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম।
জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এ বি এম গোলাম কবিরের আপন ছোটভাই আহসানুল কবির রাসেলের শ্বশুর। নিকটাত্মীয় হওয়ায় নির্বাচনের শুরু থেকেই শহিদুল পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই বিভিন্নভাবে বিএনপির নেতাকর্মীকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ বি এম গোলাম কবির ও তার সমর্থকরা। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের কর্মীরা ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না। কর্মীদের মারধর, মাইক ভাঙচুর ও প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিষয়গুলো সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালে তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। কখনো কখনো ফোনই ধরেন না। মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে এ পর্যন্ত তিনি কোনো অভিযোগই আমলে নেননি।
তিনি আরও বলেন, ‘বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি বেশিরভাগ সময় বরগুনা সদরে অবস্থান করেন। বেতাগীতে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু তার পক্ষপাতমূলক আচরণে সুষ্ঠ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, তাকে প্রত্যাহার অথবা বদলি করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।’
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমার আত্মীয়, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে আমি তার পক্ষে কাজ করছি, এটা সত্য নয়। এই নির্বাচনে সব বিষয়ে দায়বদ্ধ রিটার্নিং কর্মকর্তা। আমি শুধু তার সহকারী।’ অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার হাওলাদার বলেন, ‘এখানে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে তারা সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’