প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনী ঘিরে ছেলে-মেয়ের টুইটার যুদ্ধ

ভারতের সাবেক ও একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির আত্মজীবনী ঘিরে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তার ছেলে-মেয়ে। ডয়চে ভেলে এ খবর দিয়েছে।

জানা যায়, বেশ কয়েক খণ্ডে আত্মজীবনী লিখেছেন প্রণব মুখার্জি। প্রকাশিত খণ্ডগুলো নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি। তবে শেষ খণ্ডকে ঘিরে টুইটারে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছেন তার ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি এবং মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি।

গত ৩১ আগস্ট দিল্লির এক হাসপাতালে মারা যান প্রণব মুখার্জি। বাড়িতে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এতে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেধে যায়। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হলেও তাকে আর ফিরিয়ে আনা যায়নি।

প্রণব মুখার্জির বইয়ের নাম ‘মাই প্রেসিডেনশিয়াল ইয়ারস’। বইটি এখনো প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু তার কিছুটা অংশ সামনে এসেছে।

সেখানে দেখা গেছে, প্রণব মুখার্জি লিখেছেন, ‘কংগ্রেসে অনেকের অভিমত ছিল, ২০০৪ সালে আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম, তা হলে ২০১৪ সালে কংগ্রেসের ভরাডুবি এড়ানো যেত। আমি এই মত মানি না। তবে ২০১২ সালে আমি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কংগ্রেসের রাজনৈতিক দিশা নষ্ট হয়ে যায়। সোনিয়া গান্ধী তখন দলের বিভিন্ন বিষয় ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছিলেন না। পার্লামেন্টে মনমোহন সিং দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ছিলেন। তার ফলে সাংসদদের সঙ্গে তার যোগাযোগ নষ্ট হয়।’

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রসঙ্গে তার মূল্যায়ন, ‘প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছর  তিনি অনেকটা স্বৈরতান্ত্রিক পথে চলেছেন। সে জন্যই লোকসভা ও রাজ্যসভা এবং বিচার বিভাগের সঙ্গে তিক্ততা দেখা দিয়েছে।’

এই মতামত নিয়ে, বিশেষ করে সোনিয়া ও মনমোহন প্রসঙ্গে তার খোলাখুলি মত নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। সামাজিকমাধ্যম টুইটারে কংগ্রেসের সমর্থকেরা প্রণব মুখার্জির সমালোচনা শুরু করেছেন।

সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ছেলে অভিজিৎ এবং মেয়ে শর্মিষ্ঠা। অভিজিৎ টুইট করে বলেন, ‘বাবার আত্মজীবনীর পাণ্ডুলিপি তিনি আগে খতিয়ে দেখতে চান। তার আগে যেন বই ছাপা না হয়। আর বই বা এর অংশবিশেষ ছাপতে গেলে তার অনুমতি জরুরি বলে দাবি করেন তিনি।’

তবে ভাই অভিজিতের দাবিতে আপত্তি তোলেন শর্মিষ্ঠা। তার ভাষ্য, ‘সস্তা প্রচারের লোভে বাবার আত্মকথা প্রকাশে অযথা বাধা দেওয়া হচ্ছে।’

সাবেক রাষ্ট্রপতির ছেলে ও মেয়ে এভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় ভারতে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, ‘আগের খণ্ডগুলো প্রণব বাবু বিতর্কিত কথা কিছু বলেননি। শেষ খণ্ডে কিছুটা বলেছেন। এটা স্বাভাবিক।’

ডয়চে ভেলেকে শুভাশিস বলেন, ‘প্রণববাবুর বই এডিট করার অধিকার কোনো ব্যক্তির আছে বলে মনে হয় না। এগুলো অগণতান্ত্রিক কথা।’

একইভাবে আরেক সাংবাদিক ও লেখক দীপ্তেন্দ্র রায়চৌধুরী বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বাক-স্বাধীনতার পক্ষে। প্রণববাবু তার বইতে যা লিখেছেন তা যাতে প্রকাশিত না হয়, তার চেষ্টা হবে গণতন্ত্রবিরোধী। আমাদের দেশে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যক্তি, দল বা সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বই, সিনেমা, নাটক নিয়ে আপত্তি জানায়, তা আটকে দেয়ার চেষ্টা করে। এটা ঘোরতর অন্যায়।’

প্রণববাবুর ওপর বই লিখেছেন প্রবীণ সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী। তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতির খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বই নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। সোনিয়া, মনমোহন, মোদিকে নিয়ে সহজ সত্য কথা হয়তো অনেকেই মানতে চাইবেন না। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে প্রণববাবুকে গালাগালিও দিচ্ছেন। সেগুলো অধিকাংশই না জেনেবুঝে করা হচ্ছে।’