পড়া মুখস্থ করার কৌশল

পড়া না বুঝে মুখস্থ করলে মনে থাকে না। না বুঝে মুখস্থ করাও ঠিক না। পড়াশোনা সহজ করতে কিছু কিছু বিষয় ছাত্রছাত্রীদের মুখস্থ করতে হয়। কী করে পড়া মুখস্থ করবে তার উপায় জানালেন শিক্ষিকা আসমা আক্তার জেবা

          মুখস্থ করাকে ইংরেজিতে বলে ‘ learn by heart’ অর্থাৎ হৃদয় দিয়ে পড়া। অর্থাৎ তোমরা যা কিছু পড়বে তা মনের মধ্যে গেঁথে নিতে হবে। বিষয়বস্তুর অর্থ যেন বোধগম্য হয়।

          জেনে রেখো মুখস্থ করা কিন্তু স্মৃতিতে শক্তির ওপর নির্ভর করে। মনোযোগ সহকারে পড়লে পড়া দ্রুত মুখস্থ হয়। এর জন্য ঘুমানোর আগে ও ভোরবেলা পড়লে পড়া দ্রুত মুখস্থ হয়। মেডিটেশন করলেও পড়ায় মনোযোগ বাড়ে এবং পড়া দ্রুত মুখস্থ করতে সুবিধা হয়। এ ছাড়া পড়ার সময় খাতায় যদি লিখে লিখে পড়ো তাতেও পড়া দ্রুত মুখস্থ হবে। পড়ার সময় বাক্যের মধ্যে কঠিন অংশগুলোর নিচে দাগ দিয়ে দিলেও পড়া মুখস্থ সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

          একটা অংশ পড়ার পর সেটা লিখতে হবে খাতায়। তারপর মনে মনে আওড়াতে হবে। যদি ভুল হয় তবে আবার পড়তে ও লিখতে হবে। কোন জায়গায় ভুল হচ্ছে, কেন হচ্ছে এটা বের করো। এভাবে বারবার লিখে অভ্যাস করতে করতে মুখস্থ হয়ে যাবে। যাদের স্মৃতি প্রখর তাদের মুখস্থ করতে সময় লাগে না। সাধারণত কবিতা, সূত্র, বিক্রিয়া ইত্যাদি মুখস্থ করার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় ভালো করে পড়ে মানে বুঝে নিজের ভাষায় লিখে পড়াই শ্রেয়।

          বড় কোনো বিষয় একত্রে পড়লে আমাদের মেমোরি সেটাকে ধরে রাখতে পারে না। ফলে আমরা ভুলে যাই। বড় করে পড়ার এই ভুলটা তোমরা কেউ কেউ করো। কিন্তু ভেবে দেখো পড়াগুলোকে যদি ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সেই অংশগুলোকে আগে মুখস্থ করে পরে সবটুকু জোড়া লাগানো হয়, তাহলে দেখবে সেই পড়াটা তুমি সহজেই মুখস্থ করতে পারছো এবং এর স্থায়িত্ব বহু দিন থাকে। তাই সবটুকু একেবারে না পড়ে মুখস্থ করার চেয়ে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে মুখস্থ করার প্রক্রিয়াটাই বেশি শ্রেয়।

          হাইলাইটার, কলম বা পেনসিল দিয়ে দাগিয়ে পড়ার অভ্যাস থাকলে শুধু মেইন পয়েন্ট বা ক্লুগুলো দাগাও। যাতে রিভাইজ দেওয়ার সময় চোখ আগে দাগানো অংশের নিচে চলে যায়। জোরে পড়ো : জোরালো কণ্ঠে পড়ো। জোরে পড়লে মাথায় পড়া দ্রুত ঢুকে যায়। যেমন একটি গান যখন শুনবে তখন তা দ্রুত মনে পড়ে যাবে, যা পড়ছো তা কানে প্রবেশ করলেই দ্রুত মুখস্থ হবেই হবে।