চট্টগ্রামে আসন্ন চার পৌরসভা (পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী) নির্বাচনে এখনো একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এই চার পৌরসভার মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী ২৩ নেতার নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে এসব পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী নির্ধারণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা ও পৌরসভা থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা চায়। নির্দেশনা অনুসারে এসব উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগ থেকে তালিকাও পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ৯ ও ১০ ডিসেম্বর নগরীর দলীয় কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই চার পৌরসভার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা। কিন্তু সাক্ষাৎকারে মনোনয়নপ্রত্যাশী কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। প্রত্যেকেই নৌকার মাঝি হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে মরিয়া। তাই একক প্রার্থীর তালিকা পাঠানো যায়নি।
কেন্দ্রে যে ২৩ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে তার মধ্যে পটিয়া পৌরসভার তালিকায় রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন বর্তমান পটিয়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আয়ুব বাবুল ও আওয়ামী লীগ নেতা সরওয়ার হায়দার। তালিকায় থাকা চন্দনাইশ পৌরসভার সাতজন হলেন চন্দনাইশ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী ফাউন্ডেশন পবিত্র মক্কা শাখার সাবেক সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক, বর্তমান চন্দনাইশ পৌর মেয়র মো. মাহবুবুল আলম খোকা, আওয়ামী লীগ নেতা মো. রফিকুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম রহমানী, শেখ মো. টিপু ও শাহাদাত নবী।
সাতকানিয়া পৌরসভার তিনজন হলেন বর্তমান সাতকানিয়ার মেয়র ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক গোলাম ফারুক ডলার ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম। বাঁশখালী পৌরসভার তালিকায় রয়েছেন নয়জন। তারা হলেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম তোফাইল বিন হোসাইন, বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শ্যামল কান্তি দাশ, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা নুর মো. নুর হোসেন, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা আক্তার কাজেমী, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগ নেতা মোহামুদুল ইসলাম, বাঁশখালী পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. হামিদ উল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলী মো. মুজতবা ও বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম মনছুর আলী।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছিল প্রত্যেক পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনজনের তালিকা পাঠানোর। কিন্তু এখন এই চার পৌরসভার দুটিতে তিনজনের বেশি নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আসলে কেউ কাউকে ছাড় দিতে চায় না। তবে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। কেন্দ্র যাকেই মনোনয়ন দেবে, তাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব আমাদের।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের পাঠানো তালিকার সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এসব পৌরসভায় নৌকার একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের বিধি ও পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রথম সভার দিন থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পরবর্তী পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ভোটগ্রহণের বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে পটিয়া পৌরসভায় আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি, চন্দনাইশ পৌরসভায় ২৫ ফেব্রুয়ারি, সাতকানিয়া পৌরসভায় ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং বাঁশখালী পৌরসভায় ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।