রাজধানীর হাতিরঝিল থানার সোনারগাঁ হোটেলের সামনে ছুরিকাঘাতে আহত কিশোর তামিম (১৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
বুধবার বিকেল চারটার দিকে গ্রিন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। মুন্সীগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কাঠাইদিয়া গ্রামের আলমের ছেলে তিনি। এক ভাই, দুই বোনের মধ্যে তামিম ছিল মেজো। পরিবারের সাথে বাংলামোটর পেট্রোল পাম্প গলির ৬৪/বি নম্বর ইকবালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তামিমের চাচা মোহাম্মদ মিলন জানান, গত সোমবার দিবাগত রাতে তামিম একাই কাওরানবাজার এলাকায় যায় বিরিয়ানি খেতে। সেখান থেকে বিরিয়ানি খেয়ে বাসায় ফেরার সময় রাত বারোটার দিকে সোনারগাঁ হোটেলের সামনে ৫/৬ জন দুর্বৃত্ত তাকে পেটে, পিঠে ও গলায় সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে সে একাই দৌড়ে বাসার দিকে আসে। তখন খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। সর্বশেষ বুধবার সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নিয়ে যেতে বলেন। ঢাকা মেডিকেলে আইসিইউতে সিট না পাওয়ায় তাকে গ্রীন রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল চারটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তামিমের চাচা মোহাম্মদ মিলন আরো জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তামিম জানিয়েছিলো যে, ওই রাতে সাব্বির নামে এক যুবক কিশোর দলকে দেখিয়ে দেয়। পরে তাদের মধ্যে শাওন নামের এক কিশোর তামিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। কি কারণে তারা তামিমকে ছুরিকাঘাত করেছে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি।
তবে মাসখানেক আগে একই এলাকায় এক মেয়ের সাথে তার মোবাইলে মেসেজ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব হয়েছিলো। তখন এলাকার নেতারা তামিমের পরিবারকে শাষিয়েছিল। তারাই এ ঘটনার পেছনে দায়ী কিনা তাও বলতে পারিনি স্বজনরা।
হাতিরঝিল থানার এসআই হারুন-অর-রশিদ মৃধা জানান, সোমবার দিবাগত রাতে সোনারগাঁ হোটেলের সামনে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত তামিমের চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রীনরোডের একটি ক্লিনিকে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কে বা কারা তাকে ছুরিকাঘাত করেছে এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।