ভারতের চলমান কৃষক আন্দোলনের মাঝে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক শিখ পুরোহিত এক কৃষক। এ নিয়ে বুধবার উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানার সিংঘু।
সন্ত বাবা রাম সিং নামে ওই পুরোহিত কৃষক সুইসাইড নোটে লিখেছেন, কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা ও সরকারের অত্যাচার আর চোখে দেখা যাচ্ছে না বলেই তিনি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই সময় জানায়, হরিয়ানার শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির নেতা হওয়ার পাশাপাশি নিজে কৃষকও ছিলেন কার্নালের বাসিন্দা রাম সিং।
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সমাধান না আসায় মুষড়ে পড়েছিলেন তিনি।
সুইসাইড নোটে রাম সিং লিখেন, ‘কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা আর সরকারের অত্যাচার আর চোখে দেখা যাচ্ছে না। অনেক দিন ধরে কৃষক-বন্ধুদের কষ্ট দেখছি। রাস্তায় দিন কাটছে তাদের। নিজেদের অধিকারের জন্য জীবনপাত করে দিচ্ছে।’
‘কিন্তু এটা দেখে আরও খারাপ লাগছে যে, এরপরও সরকার তাদের সুবিচার পাইয়ে দিচ্ছে না। নিপীড়িত হয়ে চলেছে তারা। এটা অপরাধ। একপক্ষ অত্যাচার করে পাপ করছে আর অন্য পক্ষ তা সহ্য করছে’ যোগ করেন তিনি।
শিখ পুরোহিত এই কৃষক আত্মহত্যার কারণ হিসেবে লিখেছেন, ‘আমার এই পদক্ষেপ সরকারের সেই অত্যাচারের বিরুদ্ধে। কৃষকদের জন্য লড়াইয়ের পক্ষে।’
ইতোমধ্যেই বিজেপি সরকারের একাধিক মন্ত্রীর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখেও কৃষক আন্দোলন নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ শোনা গেছে! দলীয় সহকর্মীদের মতো এ জন্য কাঠগড়ায় তুললেন রাজনৈতিক বিরোধীদেরই।
কৃষকদের বেশিরভাগই বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে অনড়। সরকারের চাপ বা একের পর এক সতীর্থের মৃত্যু কোনো কিছুতে যে এ আন্দোলন তারা থামাচ্ছেন না তা স্পষ্ট।
মঙ্গলবারই যেমন সিংঘু সীমানায় প্রাণ হারান ৭০ বছরের এক কৃষক। এদিন আবার আত্মঘাতী হলেন আরেক কৃষক। এছাড়া প্রতিবাদস্থল থেকে ফেরার পথে দু’টি আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন পাঞ্জাবের চার কৃষক।
শোকের এমন আবহ সত্ত্বেও কৃষক নেতারা ফের জানিয়ে দেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনাতে রাজি নন তারা।
বুধবার বিক্ষোভকারী কৃষকদের একাংশ নয়ডা-দিল্লির মাঝে ছিল্লা সীমানা পুরোপুরি অবরোধ করেন। উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরের একাধিক ‘খাপ’ও কৃষক-বিক্ষোভ সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর দিল্লিতে পৌঁছাবে তারা।