প্রশ্নপত্র কঠিনের অভিযোগ তুলে বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষা বর্জন করেছেন রাজধানীর একাধিক কেন্দ্রের শিক্ষানবিস আইনজীবীরা। গতকাল শনিবার পরীক্ষা শুরু পরপরই দুটি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা প্রশ্ন ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ ১৩ জনকে আটক করেছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে ঢাকার ৯টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কয়েকটি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা। অনেকে পরীক্ষা বর্জন করে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও পুরান ঢাকার মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্রের একদল পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র ছিঁড়ে ফেলে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা অন্যদের খাতাও ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ওই দুই কেন্দ্রের প্রায় দুই হাজার পরীক্ষার্থী তাদের খাতা জমা দিতে পারেননি। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ৯টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ২-৩টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্বে ছিলেন। তাদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। পুলিশও রিপোর্ট দেবে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা নামধাম মিলিয়ে দেখব। তারপরই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার কাউন্সিল কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, যারা অন্যের পরীক্ষা বন্ধের জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে তারা আইনজীবী হওয়ার যোগ্য নন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চারদিক থেকে চাপ রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষায় নজিরবিহীন নৈরাজ্যের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মোহম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, এ ঘটনায় পুলিশ ১২ পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে।