মোদির চোখ পশ্চিমবঙ্গে

ভারতজুড়ে চলছে তীব্র কৃষি আন্দোলন। কেন্দ্রীয় সরকারের করা বিতর্কিত তিনটি কৃষি বিল বাতিলের দাবিতে সারা দেশের কৃষকরা রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলন করছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর

কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রের তৎপরতা দেখে মনে হবে যেন, মোদি প্রশাসনের সব নজর এখন দিল্লিতে আন্দোলনের রাজপথে। কিন্তু এ আন্দোলনের মধ্যেই মোদি পশ্চিমবঙ্গে শাসনক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ পাঁয়তারার মুখপাত্র ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে উপড়ে না ফেললে কেন্দ্রীয় তহবিল পাওয়া যাবে না। গত শনিবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠের সভায় পরোক্ষভাবে এমন হুমকি দেন অমিত শাহ। সভা থেকে তীব্র ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন অমিত। তিনি বলেন, ‘বাংলায় রাজনৈতিক

সংস্কৃতি পাল্টেছে। বাংলায় ভয়ের রাজনীতি চলছে। বিজেপি ভয় পায় না। মমতাকে হারাবে বিজেপির বঙ্গ ইউনিট। মুখ্যমন্ত্রী হবে বাংলার মানুষ। বাংলার পরিবর্তন নিতান্ত প্রয়োজন।’

অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তাকে ভয় পান মমতা। সেই ভয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেননি। ফলে কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছে। তৃণমূলকে উপড়ে না ফেললে কেন্দ্রীয় তহবিল পাওয়া যাবে না। এটা তৃণমূলের বিদায়ের শুরু। তিনি আরও বলেন, ‘দিদি কান খুলে শুনে রাখুন বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে। ২০০টির বেশি আসনে জয়লাভ করে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে। বাংলার উন্নয়ন হবে। সোনার বাংলা গড়ে তোলা হবে।’

এদিন অমিত শাহের বক্তব্যের আগে শুরু হয় যোগদান পর্ব। সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তিনি। এরপর একে একে যোগ দেন সাবেক মন্ত্রী শ্যামাপদ মুখার্জিসহ একঝাঁক সাবেক এমপি ও আমলা। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দলত্যাগের এ শিবিরে তৃণমূলের আরও নেতাকর্মীর নাম রয়েছে যারা অচিরেই বিজেপিতে নাম লেখাতে পারে।

গতকাল রবিবার সকালে বোলপুর বিশ্বভারতীতে যান অমিত শাহ। সেখান থেকে রোড শোতে অংশ নেন তিনি। রোড শোতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেই মূলত অমিত শাহ বক্তব্য রাখেন। সেখানে এক সাংবাদিক তাকে সিএএ, এনপিআর, এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের ভাবনা কী এমন প্রশ্ন করেন। জবাবে অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত। এ রাজ্যের সরকার তোষণের রাজনীতি করছে। মমতা দিদি যখন কংগ্রেসে ছিলেন তখন ইন্দিরা গান্ধী এ রাজ্যে আসতেন, তখন তিনি কী বলতেন? আপনি কি এমন রাজ্য চান যেখানে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্য থেকে কেউ এ রাজ্যে আসবে না? এ রাজ্যের মানুষ উদার মানসিকতার। এসব প্রচারে কান দেবেন না। আমার মনে হয় তার (মমতা) মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। জাতীয় দলের সংজ্ঞাই ভুলে গেছেন।’

পশ্চিমবঙ্গ জয়ে মোদির এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এখনো মুখ খোলেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যের তৃণমূল পর্যায়ে শুভেন্দুর দলত্যাগকে একপক্ষ যেমন নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আরেকপক্ষ শুভেন্দুর বিজেপিকে যোগদানকে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্যবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধের জবাব বলছেন।