পেকুয়ায় বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষঃ যুবককে কুপিয়ে হত্যা

কক্সবাজারের পেকুয়ায় অবৈধ উপায়ে  বালু উত্তোলন নিয়ে সংঘর্ষে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত মিন্টু মিয়া পার্শ্ববর্তী বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ির আহমদ হোসেনের পুত্র বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ঝুমপাড়া এলাকায় বালি উত্তোলন নিয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে প্রতিপক্ষের হামলায় মিন্টু মিয়া নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুহাম্মাদ কাসেম বলেন, আমি শুনেছি ঝুম পাড়া এলাকার নুরুল কবিরের সাথে খোকনের মধ্যে টৈটং ছড়া থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে নিহত মিন্টুসহ একদল যুবক জয়নালের বাড়িতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা ও হামলা চালায় । এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে জয়নালের স্ত্রী হাদিজা খাতুন ও ভাই হাবিবউল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে জয়নালের পক্ষের লোকজন মিন্টুকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এ সময় তাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিন্টুসহ কিছু  সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন আমাদের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না দেওয়ায় আমার বাড়িতে এসে আমাদের মারধর করলে আমার স্ত্রীসহ আমার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে মিন্টু গণপিটুনিতে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খুনের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, টৈটং গহীন পাহাড়ে পাহাড়ি জায়গা দখল,বালি উত্তোলন নিয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় । দিনদুপুরে সেখানে ঘটে নানান অপরাধ। এমনকি দিন দুপুরে অস্ত্রের মহড়াও দেন সন্ত্রাসীরা। দীর্ঘদিন পাহাড়ে বড়সড় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান না হওয়ায় এইরকম ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।