ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজকাল এগিয়েই থাকে বাংলাদেশ। আর খেলাটা মুমিনুল হক, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের বিপক্ষে লাল-সবুজের দেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু দেশের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক কি কিছুটা সংশয়ে ভুগছেন? কেউ সেটা ভাবলে ভাবতেও পারেন। তবে বিষয়টা সম্ভবত তা নয়। কারণ সবচেয়ে মর্যাদার ক্রিকেটের এই ক্যাপ্টেন দুটি বিষয়ই ভেবে রেখেছেন। ইতিবাচক ও নেতিবাচক। স্ট্র্যাটেজির মধ্যে তাই স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ আর ‘বি’ থাকছে। তাই নিউজিল্যান্ডে ক্যারিবিয়ানদের এই সময়ের বাজে পারফরম্যান্সের পরও মুমিনুল সতর্ক।
‘এভাবে ধরতে গেলে অনেক কিছুই চলে আসবে। ওরা এর আগে তিন-চারটা সিরিজ খেলেছে।’ গেল বছরের শেষটায় নেতৃত্ব পাওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে দুটি, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুমিনুল। গতকাল তিনি বলছিলেন, ‘(ওরা) জৈব সুরক্ষায় খেলেছে। মানসিকভাবে একটু পিছিয়ে থাকতে পারে। অবশ্য একটা টেস্ট সিরিজ হেরে এলে এটা আমাদের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’
এদিকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে চেয়েও পারেনি। স্থগিত হয়েছে। তাই উইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজ দিয়েই গত মার্চের পর এই ফেরা হচ্ছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সেই সফরের আগে বাংলাদেশ নিজেদের এখন পর্যন্ত প্রস্তুত করেছে তিন দলের একটি ঘরোয়া ওয়ানডে আর পাঁচ দলের একটি মিনি বিপিএলের মতো আসর খেলে। ওদিকে উইন্ডিজ জৈব সুরক্ষায় থেকে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ৮টি আন্তর্জাতিক খেলা খেলে ফেলেছে। এটা ব্যবধান তো বটেই। ‘ওরা টানা সিরিজ হেরে আসছে এর মানে এই নয় যে ওদের আপনি এখানে হারিয়ে দেবেন। ওদের সঙ্গে খেলতে হলে আপনার পুরো চেষ্টা দিয়েই খেলতে হবে।’ মুমিনুলের ভাষায়, ‘ইতিবাচক দিক একটাই, ওরা একটু হতাশ থাকবে। তবে এর মানে এই নয় যে ওদের আপনি ছেড়ে দেবেন।’
আর জৈব সুরক্ষার আরেকটি প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল অন্যদিকের কথাটাও বলে গেলেন ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এটাও হতে পারে যে ওরা এই সিরিজ জয়ের জন্য অতিরিক্ত চাপ নিয়ে নেবে। ওরা তিনটা সিরিজ জৈব সুরক্ষা বলয়ে ছিল। এটাও সহজ নয়।’ এর সঙ্গে তার সতর্ক উচ্চারণ, ‘এটাও হতে পারে যে ওরা জানে কীভাবে জৈব সুরক্ষা বলয়ে খেলতে হয়। ওরা এদিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকবে।’
কিন্তু এভাবে জৈব সুরক্ষায় থেকে খেলাটা বড় বেশি মানসিক চাপের খেলোয়াড়দের জন্য। এর মধ্যে জৈব সুরক্ষায় কয়েক দফা কাটানোর অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। তাতে কিছুটা অভ্যস্ততা তো হয়েছেই। তারপরও বায়ো-বাবলের মধ্য থেকে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার মানসিক দিকটার কথাও মনে করিয়ে দিয়ে যান মুমিনুল, ‘শুধু আমরা নই। বর্তমান যেই অবস্থা, এই অবস্থায় সবারই একটু চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। এটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করা ভালো। করোনার পর শুধু আমরা নই, বিশ্বের অনেক দলকেই এই সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। যারা অনেক বেশি খেলছে, তারা আবার জৈব সুরক্ষা বলয়ের ভেতরে থাকবে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। জিনিসটা আপনি কীভাবে নেবেন সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
মুমিনুল নতুন অধিনায়ক। অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে। তার ওপর তিনটি টেস্টে বড় বেশি বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের। এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে পাননি। জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য গোপন করায় আইসিসি এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল তাকে। গত ২৯ অক্টোবর সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলে ফেলেছেন সাকিব। এই যে তাকে আবার টেস্ট দলে ফিরে পাওয়া সেটা যে মুমিনুলের জন্য কত বড় স্বস্তির ব্যাপার তা স্পষ্ট তার কথায়, ‘অবশ্যই তরুণ অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য স্বস্তির বিষয়। সাকিব থাকলে দলে ভালো ভারসাম্য তৈরি হয়। ভালো দিক আমাদের জন্য। অনেক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার।’